রবিবার
০৯ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
০৯ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিজের স্ত্রীকে বিয়ে দিলেন প্রেমিকের সাথে

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২৪ এএম আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২৭ এএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

ভালোবাসা থেকে শুরু হওয়া ২১ বছরের সংসার, আর পাঁচ সন্তানের ভবিষ্যৎ- সবকিছু এক নিমেষেই ফিকে হয়ে গেল এক পরকীয়ার জাঁতাকলে পড়ে।

সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের আশরাফপুর গ্রামের এক শিবমন্দিরে ঘটে যাওয়া এক বিচিত্র ও নজিরবিহীন বিয়ের সাক্ষী হলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আর এই পুরো আয়োজনের মূল কারিগর ছিলেন কনেরই আগের পক্ষের স্বামী, বুদ্ধিরাম নিশাদ।

ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে স্থানীয় দেবরি গ্রামের বাসিন্দা বুদ্ধিরাম ও ফুলমতীর ২১ বছরের এক সময়কার সুখের সংসার। দীর্ঘ বিবাহিত জীবনে তাদের ঘরে রয়েছে ১৮ বছর বয়সী এক ছেলেসহ মোট পাঁচ সন্তান।

তবে কিছুদিন আগে ফুলমতীর জীবনে আগমন ঘটে ২৬ বছর বয়সী যুবক অবধেশের। সময়ের সাথে সাথে অবধেশের সাথে ফুলমতীর প্রেমের সম্পর্ক গভীর হতে থাকে, যার খেসারত দিতে হয় বুদ্ধিরামকে প্রতিদিনের পারিবারিক অশান্তির মাধ্যমে।

পরবর্তীতে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে, যখন দুই মাস আগে ফুলমতী নিজের ঘরসংসার ছেড়ে প্রেমিক অবধেশের সঙ্গে পালিয়ে যান। স্বজনদের অনেক বুঝিয়ে-শুনিয়ে ফুলমতীকে ঘরে ফিরিয়ে আনলেও তাদের দাম্পত্য কলহ এতটুকু কমেনি।

ফুলমতী বারবার পরিষ্কার জানিয়ে দেন, তিনি বুদ্ধিরামের সঙ্গে আর কোনোভাবেই সংসার চালাতে ইচ্ছুক নন। স্ত্রীর এই অনড় মনোভাব দেখে অবশেষে এক অদ্ভুত ও চরম সিদ্ধান্ত নেন বুদ্ধিরাম।

প্রতিদিনের এই বিবাদ ও মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে বুদ্ধিরাম নিজেই উদ্যোগী হন স্ত্রীর পছন্দমতো মানুষকে বেছে নেওয়ার জন্য। তিনি সিদ্ধান্ত নেন, স্ত্রীকে তার নতুন প্রেমিকের হাতেই আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেবেন।

সেই অনুযায়ী আশরাফপুর গ্রামের শিবমন্দিরে বেশ জমকালোভাবেই আয়োজন করা হয় ফুলমতী ও অবধেশের বিয়ের। আশপাশের প্রচুর গ্রামবাসী কৌতূহল নিয়ে হাজির হন এই অভিনব ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হতে।

বিয়ের প্রতিটি ধাপে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে বুদ্ধিরাম কেবল এই আয়োজনের তত্ত্বাবধানই করেননি, প্রচলিত সামাজিক রীতি মেনে স্ত্রীকে বিজোড়ে বিদায় জানানোর আনুষ্ঠানিকতাতেও তিনি উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের কষ্টের কথা লুকিয়ে তিনি বলেন, “প্রতিদিনের মানসিক অশান্তি ও ঝগড়া-ঝাটি নিয়ে বেঁচে থাকা অসম্ভব। তাই ও যার সাথে সুখে থাকতে চায়, সেখানেই তাকে সামাজিক রীতি মেনে পার করে দিলাম।”

সমাজ ও সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হলেও এ ঘটনায় কোনো আইনি জটিলতা তৈরি হয়নি।

স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটিকে ঘিরে কোনো পক্ষ থেকেই কোনোপ্রকার লিখিত বা অলিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়নি, ফলে বিষয়টি নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকেও কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

সূত্র: এনডিটিভি

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন