

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারীর সঙ্গে পরিচয়ের পর গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য ফাঁসের অভিযোগ উঠেচে ভারতীয় বিমানবাহিনীর এক উইং কমান্ডারের বিরুদ্ধে। পাকিস্তানি গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের সঙ্গে ওই নারীর সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে ধারণা করছে ভারতীয় তদন্তকারীরা। এ ঘটনায় ওই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
শনিবার (০৮ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৩০ মে ওই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দিল্লির একটি আদালতে হাজির করা হলে তাকে তিহার কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর ওই কর্মকর্তা জামিনের আবেদন করেননি।
বিমানবাহিনী সূত্রের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, এক পাকিস্তানি নারী গোয়েন্দার সঙ্গে ওই কর্মকর্তার যোগাযোগের বিষয়টি জানতে পারে বিমানবাহিনী। পরে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তকারীদের ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে ওই নারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছিল। সে সময় ব্যক্তিগত জীবনে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন ওই কর্মকর্তা। এরপর নিয়মিত বার্তা আদান-প্রদান ও ভিডিও কলে যোগাযোগের সূত্র ধরে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
একপর্যায়ে ওই কর্মকর্তার কাছ থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ওই নারীর কাছে পাঠানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে ঠিক কী ধরনের তথ্য ফাঁস হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থাগুলো এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি। এসব তথ্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
ঘটনার তদন্তে কর্মকর্তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল অ্যাপও গুরুত্ব পাচ্ছে। জানা গেছে, এক সহকর্মীর সহায়তায় তিনি অ্যাপটি নিজের ফোনে ইনস্টল করেছিলেন। তদন্তকারীদের সন্দেহ, ওই অ্যাপের মাধ্যমে তাঁর মোবাইলের তথ্য বা নিয়ন্ত্রণে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে।
এখন ওই অ্যাপ, মোবাইল ডিভাইস এবং সংশ্লিষ্ট যোগাযোগের তথ্য বিশ্লেষণ করছেন তদন্তকারীরা। এর মাধ্যমে তথ্য ফাঁসের পরিমাণ, যোগাযোগের ধরন এবং ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বর্তমানে পুরো যোগাযোগের নেটওয়ার্ক ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে