

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভারতের দিল্লিতে সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে স্ত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত জানিয়েছেন, জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ‘দ্য স্টেয়ারকেস’ দেখে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি।
পুলিশ জানায়, গত ৩০ জুলাই কামাল সিং ও তার স্ত্রী কোমল সিং বাড়িতে একা ছিলেন। ছেলে লাইব্রেরিতে, মেয়ে অফিসে এবং গৃহকর্মী কাজ শেষ করে চলে যাওয়ার পর দুপুর প্রায় ১২টা ৪৫ মিনিটে বারান্দায় কাপড় শুকাতে থাকা কোমলের মাথায় পেছন থেকে একটি তলোয়ার দিয়ে আঘাত করেন কামাল।
তবে প্রথম আঘাতের পর কোমল চিৎকার করে রান্নাঘরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে কামাল তাকে চুল ধরে টেনে বসার ঘরে নিয়ে আসেন এবং কাঁচি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন।
পুলিশের দাবি, নিহতের চিৎকার আশপাশের মানুষ শুনতে পেলেও কেউ এগিয়ে আসেননি। এমনকি কামালের বাবা তার স্ত্রীকে বিষয়টি দেখতে বললেও তিনি এটিকে স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত বিষয় বলে হস্তক্ষেপ না করার পরামর্শ দেন।
হত্যার পর কামাল রক্তমাখা পোশাক ও তলোয়ার একটি ব্যাগে ভরে প্রায় ১৫ মিনিট গোসল করেন। এরপর স্কুটারে করে পালিয়ে যাওয়ার সময় ব্যাগটি ফেলে দেন। পথে তিনি দুটি ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় ৭ লাখ রুপি তুলে নেন। এর আগে স্ত্রীর কক্ষ থেকে ৫ লাখ রুপি নগদও নিয়ে যান। সব মিলিয়ে তার কাছে প্রায় ১২ লাখ ৭৫ হাজার রুপি ছিল।
এদিকে দম্পতির ২৬ বছর বয়সী ছেলে গৌরব সিং বারবার মাকে ফোন করলেও কোনো সাড়া পাননি। রাত প্রায় ৯টা ১৫ মিনিটে বাড়ি ফিরে তিনি মাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। মরদেহের পাশে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কাঁচি পাওয়া গেলেও তলোয়ারটি ছিল না।
এরপর পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত নজরদারি ও ইলেকট্রনিক তথ্য বিশ্লেষণ করে কামালের গতিবিধি অনুসরণ শুরু করে। প্রথমে তিনি মোবাইল ফোন চালু রেখে গোরখপুরের দিকে যাওয়ায় পুলিশ ধারণা করেছিল, তিনি নেপালে পালাচ্ছেন। পরে গোরখপুরে গিয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করে তিনি মথুরার দিকে রওনা দেন, যাতে তদন্তকারীরা বিভ্রান্ত হন।
তিন দিনের অভিযানের পর মথুরা রেলস্টেশনের কাছে কামালকে গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশ। তার কাছ থেকে স্কুটার ও পুরো অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে কামাল হত্যাকাণ্ড এবং পালানোর পরিকল্পনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। তিনি পুলিশকে জানান, ‘দ্য স্টেয়ারকেস’ ওয়েব সিরিজে দেখানো কৌশল অনুসরণ করে হত্যার অস্ত্র ধ্বংস করার পরিকল্পনা করেছিলেন, যাতে তার বিরুদ্ধে প্রমাণ দুর্বল হয়ে যায়। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এরপর তার নেপালে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
তদন্তে আরও জানা গেছে, গত এক বছর ধরে কামাল ও কোমলের দাম্পত্য সম্পর্ক অত্যন্ত তিক্ত ছিল। মুম্বাই সফরের সময় কামাল আরেক নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন, যা দাম্পত্য সম্পর্কে আরও বিরোধ সৃষ্টি করে।
এছাড়া তারা একই বাড়িতে থাকলেও আলাদা বিদ্যুৎ বিল দিতেন। পুলিশ জানিয়েছে, জগতপুরীতে একটি সম্পত্তি কিনে বাবার নামে নিবন্ধন করতে চেয়েছিলেন কামাল। কিন্তু সেই সম্পত্তিতে নিজের অংশ দাবি করেছিলেন কোমল। এ নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া হতো। তদন্তকারীদের ধারণা, এই সম্পত্তি বিরোধই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ।
সূত্র : এনডিটিভি