

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত হওয়ার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আরেকটি মৃত্যুর ঘটনায় শোক নেমে এসেছে একটি পরিবারে। দুর্ঘটনায় আহত চাচার ভয়াবহ ভিডিও দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে স্ট্রোকে মারা গেছেন ভাতিজা ফজলে রাব্বি (২২)।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া ইউনিয়নের বানদিঘী পূর্বপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। একই দিনে চাচা-ভাতিজার এমন মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নিহত ফজলে রাব্বি ওই এলাকার গোলাম রব্বানীর ছেলে। তিনি ২০২৪ সালে গোদারপাড়া রাবেয়া মেমোরিয়াল হাই স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, রাব্বি আগে থেকেই হৃদরোগে ভুগছিলেন।
স্বজনদের ভাষ্য, শুক্রবার ভোরে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক সড়কের এরুলিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে থাকা দিনমজুরদের চাপা দেয়। ঢাকা থেকে নওগাঁগামী শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের ওই বাসের দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে ছিলেন রাব্বির চাচা নূর আমিন (৩৫)। দুর্ঘটনায় তার একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাকে প্রথমে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দুর্ঘটনার ভিডিও দেখে ফেলেন রাব্বি। চাচার এমন ভয়াবহ অবস্থা দেখে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। কিছুক্ষণ পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকেরা জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
বানদিঘী পূর্বপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. সাদিকুল ইসলাম বলেন, জুমার নামাজের আগে রাব্বি তাঁর দোকানে এসে মোবাইলে ফ্লেক্সিলোড করেন এবং চাচার জন্য দোয়া করতে বলেন। নামাজ শেষে তিনি জানতে পারেন, চাচার দুর্ঘটনার ভিডিও দেখার পর রাব্বির মৃত্যু হয়েছে।
রাব্বির দুলাভাই মো. রাজা মিয়া বলেন, রাব্বি আগে থেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন। দুর্ঘটনার ভিডিও দেখে তিনি প্রচণ্ড মানসিক আঘাত পান এবং পরে স্ট্রোক করেন।
তিনি বলেন, একই দুর্ঘটনা তাদের পরিবারে দুই ধরনের ক্ষতি করেছে—একজন চাচা এখন গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন, আর ভাতিজা আর নেই।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সড়ক দুর্ঘটনা শুধু সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের নয়, অনেক সময় তাদের স্বজনদের জীবনেও গভীর প্রভাব ফেলে। তারা বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং সড়কটি দ্রুত চার লেনে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছেন।