শুক্রবার
০৭ আগস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
০৭ আগস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রিল ভিডিও তৈরিতে আসক্ত থাকায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন স্বামী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের বেঙ্গালুরুতে এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি বিহারে পালিয়ে গেলেও পুলিশ তাকে সেখান থেকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গত ২৫ জুলাই বেঙ্গালুরুর কুম্বালাগোডু এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ধীরাজ কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি স্ত্রী রিমা কুমারীকে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে মরদেহ একটি চাদরে মুড়িয়ে ভাড়া বাসার ভেতরে রেখে পালিয়ে যান।

তদন্তে জানা যায়, ধীরাজ ও রিমা প্রেম করে প্রায় ১০ মাস আগে বিয়ে করেছিলেন। পরিবারের কাউকে না জানিয়ে তারা বেঙ্গালুরুতে গিয়ে বসবাস শুরু করেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধীরাজ পুলিশকে জানান, বেঙ্গালুরুতে আসার পর রিমা তার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন। তিনি বেশিরভাগ সময় বাড়িতে ভিডিও রিল তৈরি করতেন এবং স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্কেও অনীহা দেখাতেন বলে দাবি করেছেন ধীরাজ।

এ ছাড়া ধীরাজের দাবি, রিমা শুধু নিজের জন্য রান্না করতেন এবং তিনি কাজ থেকে ফিরলেও খাবার দিতেন না। এসব বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। রিমা আবার বিহারে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছিলেন।

ঘটনার দিন ধীরাজ বাসায় ফিরে নিজের জন্য কোনো খাবার প্রস্তুত না দেখে স্ত্রীর সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে তিনি রিমাকে ঘুমাতে যেতে বললেও তিনি রাজি হননি। পুলিশের দাবি, একপর্যায়ে রিমা একটি কাঠের লাঠি দিয়ে ধীরাজকে আঘাত করেন। এরপর ধীরাজ ওড়না দিয়ে তার গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।

হত্যার পর ধীরাজ মরদেহের মুখ প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে একটি চাদরে মুড়িয়ে ভাড়া বাসার ভেতরে রেখে বিহারে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।

২৯ জুলাই দুর্গন্ধ ছড়ানোর খবর পেয়ে ভবনের মালিক কক্ষটিতে ঢুকে টয়লেটের পাশে চাদরে মোড়ানো পচনধরা মরদেহ দেখতে পান। পরে তিনি পুলিশকে খবর দেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে কুম্বালাগোডু থানা হত্যা ও আলামত নষ্টের অভিযোগে মামলা করে তদন্ত শুরু করে। পরে বিহার থেকে ধীরাজকে গ্রেপ্তার করে বেঙ্গালুরুতে আনা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে ধীরাজ হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। তদন্তের অংশ হিসেবে বৈজ্ঞানিক আলামত ও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে।

সূত্র: এনডিটিভি

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন