

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভারতের সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিন ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। কর্মসূচির সময় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। দলটির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে পুলিশের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় ও সীমিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে সোমবার (২০ জুলাই) যন্তর-মন্তরে সমাবেশ করে সিজেপি। সেখান থেকে সংসদ ভবনের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়।
দলটির মুখপাত্র সৌরভ দাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দাবি করেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ বলপ্রয়োগ করেছে এবং সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সংসদ সদস্যদের শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানানোর আহ্বান জানান।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ সংসদ এলাকার নিরাপত্তা ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি সামাল দিতে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার এবং সীমিত বলপ্রয়োগ করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে সংসদ ভবনের কয়েকটি প্রবেশপথও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টাকে ঘিরে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও আন্দোলনকারী সামান্য আহত হন। পরে ১০ থেকে ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়।
কনস্টিটিউশন ক্লাব ও রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই)–সংলগ্ন এলাকায়ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সিজেপির অভিযোগ, ওই এলাকায় তাদের অন্তত সাতজন সমর্থককে আটক করা হয়েছে। তবে দিল্লি পুলিশ বলেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ন্যূনতম শক্তি ব্যবহার করা হয়েছে এবং দমন-পীড়নের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।
দিল্লি পুলিশের উপকমিশনার সচিন শর্মা বলেন, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ সঠিক নয়।
এদিকে এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দিল্লি পুলিশ জানায়, যন্তর-মন্তরে ব্যাপক সহিংসতা বা গণআটকের যে তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে, তা বিভ্রান্তিকর। পুলিশের দাবি, পুরো পরিস্থিতি আইন অনুযায়ী ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে গুজবে কান না দিয়ে জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
চলতি বছরের মে মাসে অভিজিৎ দীপকে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নামে একটি ব্যঙ্গধর্মী ডিজিটাল সংগঠন গড়ে তোলেন। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের একটি মন্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার মধ্যে দলটির যাত্রা শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই সংগঠনটি অনলাইনে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। বিভিন্ন বিরোধী রাজনীতিক, সমাজকর্মী, শিল্পী ও ক্রীড়াবিদও এর প্রতি সমর্থন জানান।