

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গরু বিক্রি ও জবাইয়ে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। দেশটির বিভিন্ন স্থানে মুসলমানদের গরু কোরবানি দেওয়ার অধিকার দিতে হবে এই দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন হিন্দুরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের একাধিক আলেম ও ইমামরা মুসলিম সম্প্রদায়কে কোরবানিতে গরু ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছেন।
পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র বিভাগ গত ১৩ মে এক নির্দেশনায় জানায়, সরকারি অনুমতি ছাড়া গরু, ষাঁড়, বাছুর ও মহিষ জবাই করা যাবে না। জবাইয়ের আগে পৌরসভা চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত প্রধান এবং সরকারি পশুচিকিৎসকের যৌথ সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়, শুধুমাত্র ১৪ বছরের বেশি বয়সী বা অক্ষম পশু জবাইয়ের অনুমতি পাবে। আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে জেল ও জরিমানার বিধানও রাখা হয়েছে।
বিজেপি সরকারের এমন সিদ্ধান্তে কলকাতার ঐতিহাসিক নাখোদা মসজিদের ইমাম মাওলানা শফিক কাসমি মুসলমানদের গরু কোরবানি না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বলেন, আমি মুসলিম ভাইদের বলব, গরু কোরবানি না দিতে। এমনকি গরুর মাংস খাওয়াও বন্ধ করা উচিত।
হুগলির ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা জিয়াউদ্দিন সিদ্দিকিও একই সুরে বলেন, হিন্দুরা গরুকে পূজা করে। আমরা ছাগল বা ভেড়া কোরবানি দিতে পারি।
ভারতের আজ তক মিডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে কলকাতা হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত গরু কোরবানি বন্ধ করার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছেন হিন্দু নারী-পুরুষরা। সেখানে তারা বলেন, কোরবানির নিয়মের যে প্রথা বন্ধ করা হয়েছে, সেটা আমরা মানি না। মানবো না। রাজ্য সরকার কোরবানির নিয়ম বন্ধ করেছে, সেটা আমরা মানি না। গরু বিক্রি করতে দিতে হবে।
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনার বামুনিয়া গ্রামের সিংহভাগই হচ্ছে হিন্দু খামারি। তারা বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে গরুর খামার করেছেন। তারা কোরবানি ঈদের আগে গরু বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করার কথা ভেবে ছিলেন।
গত কয়েক বছর থেকে তারা এমনটাই করে আসছেন। কিন্তু এবার শুভেন্দু সরকারের জারি করা আইনের কারণে কেউ-ই আর গরু কিনছেন না।
গ্রামের হিন্দু খামারিরা বলছেন, এবার অন্তত মুসলমানদের গরু কোরবানি দিতে দেওয়া হোক। তাহলে আমরা গরু বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করতে পারবো।
