রবিবার
২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অন্তঃকোন্দলে খুন হন যুবদল নেতা, খুনি আসে ঝিনাইদহ থেকে

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৪ এএম
নিহত যুবদল কর্মী ইউসুফ আলী পারভেজ
expand
নিহত যুবদল কর্মী ইউসুফ আলী পারভেজ

রাজধানীর মিরপুরে যুবদল কর্মী ইউসুফ আলী পারভেজ হত্যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার মূল লক্ষ্য ছিলেন কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবু।

শুক্রবার রাতে মিরপুর-১৩ নম্বর এলাকায় হাফিজুল ইসলামের বাসার পাশের একটি চায়ের দোকানে আড্ডা দেওয়ার সময় সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন যুবদল কর্মী ইউসুফ আলী পারভেজ (৪৫)। আহত হন যুবদল কর্মী মনির হোসেন ও সবজি বিক্রেতা সালাম সরদার।

নিহতের বড় ভাই মাসুদ রানা শনিবার কাফরুল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তার দাবি, ইউসুফ আলী হামলাকারীদের লক্ষ্যবস্তু ছিলেন না; হাফিজুল ইসলামের সঙ্গে থাকায় তিনি গুলির শিকার হন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ এবং আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। হামলা চালানোর জন্য চারজন ভাড়াটে অস্ত্রধারীকে ঝিনাইদহ থেকে চার দিন আগে ঢাকায় আনা হয় বলে গ্রেপ্তার হওয়া একজন জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।

পুলিশের তথ্যমতে, হামলার আগে অভিযুক্তরা হাফিজুল ইসলামের বাসা ও ব্যক্তিগত কার্যালয় রেকি করে। পরে শুক্রবার রাতে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে তার বাসার সামনে অবস্থান নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাফিজুল ইসলাম ও তার অনুসারীরা চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় দোকানের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দুই অপরিচিত ব্যক্তিকে দেখে উপস্থিত নেতাকর্মীরা তাদের পরিচয় জানতে চান। তখনই একজন কোমর থেকে পিস্তল বের করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে ইউসুফ আলী পারভেজ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

এরপর হাফিজুল ইসলাম ও মনির হোসেন এগিয়ে এলে তাদের লক্ষ্য করেও গুলি চালানো হয়। হাফিজুল ইসলাম অক্ষত থাকলেও মনির হোসেন গুরুতর আহত হন।

ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। ফুটেজে চারজন হামলাকারীকে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে ঘটনাস্থলে অবস্থান করতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র।

হাফিজুল ইসলাম বাবু বলেন, একটি জানাজা শেষে বাসার পাশের একটি চায়ের দোকানে বসে কথা বলছিলাম। এক ছোট ভাই ফোনে জানায়, দোকানের পাশে দুজন সন্দেহজনক লোক ঘোরাফেরা করছে। ইউসুফ গিয়ে তাঁদের পরিচয় জানতে চেয়েছিল। তাঁরা রেগে কথা বলা শুরু করে। তখন ইউসুফ একজনকে জাপটে ধরতে গেলে সে কোমর থেকে পিস্তল বের করে বুকে গুলি করে।

হাফিজুল ইসলাম বলেন, তিনি এগিয়ে গেলে আরেক যুবক তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। মাটিতে পড়ে যাওয়ায় গুলি তাঁর শরীরে লাগেনি। তখন লোকজন ধাওয়া দিলে তাঁরা ফাঁকা গুলি করতে করতে পালিয়ে যান। তখন একজনকে পিস্তলসহ আটক করেন স্থানীয় লোকজন।

মিরপুরে যুবদল কর্মী ইউসুফ আলী পারভেজ হত্যা মামলার তদন্তে গ্রেপ্তার চঞ্চল মোল্যা (৩৪) প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র।

সূত্রের দাবি, চঞ্চল মোল্যাসহ চারজন চার দিন আগে ঝিনাইদহ থেকে ঢাকায় আসেন। তাদের মিরপুর-১০ নম্বর এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে রাখা হয়। কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যেই তাদের ভাড়া করা হয়েছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।

তবে কারা তাদের ভাড়া করে ঢাকায় এনেছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য স্বীকার করেননি চঞ্চল মোল্যা।

এদিকে, এ ঘটনায় কাফরুল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শ্যামল কুমার হালদার বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে আরও একটি মামলা দায়ের করেছেন।

হত্যা ও অস্ত্র আইনের দুই মামলায় মোট চারজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন চঞ্চল মোল্যা (৩৪), জিহাদ মোল্লা (৩৪), জিয়ারুল মোল্লা (৩৯) এবং হাসান (৩৫)।

চঞ্চলকে আজ আদালতে হাজির করা হয়। তাঁকে তিন দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। রিমান্ডের আবেদনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইউসুফ আলী ভূঁইয়া বলেন, আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার নেপথ্যের কারণ, ব্যবহৃত অস্ত্রের উৎস এবং পলাতক আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন