

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


তিন নেতা একসঙ্গে হয়ে প্রতিরোধ গড়লে সরকারের পতন অনিবার্য বলে মন্তব্য করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।
বিএনপি সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আজকে যদি তিনজন নেতা একসঙ্গে হয়ে যায় ডা. শফিকুর রহমান সাহেবের নেতৃত্বে। আমাদের ছোট ছেলে নাহিদ এবং শায়খুল হাদিস মামুনুল হক সাহেব তিনজন যদি একসঙ্গে হয়ে যান, এক সপ্তাহের মধ্যে আপনার সরকারের পতন হবে। এটা অনিবার্য। এটা ধরে রাখতে পারবেন না।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠে ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন এলডিপি সভাপতি।
এমন বক্তব্যের ব্যাখ্যায় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, কারণ তারা যেকোনো সময় ২০ লাখ ৩০ লাখ লোকের সমাবেশ ঢাকাতে ঘটাতে পারবে। টঙ্গীর রাস্তা বন্ধ করে দেবে। সায়দাবাদের রাস্তা বন্ধ করে দেবে। মিরপুরের রাস্তা বন্ধ করে দেবে। আপনি (প্রধানমন্ত্রী) কোন দিকে দেশে থাকবেন? আপনাকে এটা বুঝতে হবে।
এ সময় তারেক রহমানকে অন্যদের দ্বারা প্রভাবিত না হওয়ার পরামর্শ দেন অলি আহমদ। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনি দেশের মানুষের কথা বলে চিন্তা করেন। দেশের কথা চিন্তা করেন। মানুষ কেউ চিরদিন বেঁচে থাকবে না। মানুষ বেঁচে থাকে তার কর্মের মাধ্যমে। টাকা দিয়ে নয়, পদ দিয়ে নয়। আপনি প্রধানমন্ত্রী এজন্য জনগণের মধ্যে বেঁচে থাকবেন না। আপনাকে বেঁচে থাকতে হলে জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষা আপনার কর্মের মধ্যে প্রতিফলিত হতে হবে। সেটা হল জনগণ যে সংস্কার চায় সেই সংস্কার আপনি করেন। মেহেরবানি করে অন্যের কথায় প্রভাবিত না হয়ে বাংলাদেশের মানুষের কথা চিন্তা করেন।
এলিডিপি সভাপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে বলবো আপনি যখন বিভিন্ন পদে কাকে পদায়ন করেন তার ২০ বছর আগের ইতিহাস ঘেঁটে দেখবেন। কীভাবে সে দুর্নীতি করেছে, সে কোন কোন দায়িত্ব পালন করেছে। সে দায়িত্ব পালনের সময় জনগণের সাথে কীভাবে বেইমানি করেছে। এই জিনিসগুলো যদি আপনি সুন্দরভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে না দেখেন, তাহলে আপনি বিএনপির প্রধানমন্ত্রী হবেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। আপনাকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে হবে।
তিনি বলেন, আপনি বেগম জিয়ার সন্তান। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সন্তান। জিয়াউর রহমান কিজন্য প্রসিদ্ধ হয়েছিলেন? ‘আই মেজর জিয়া ডিক্লেয়ার মাইসেলফ এজ এ প্রফেশনাল হেড অফ স্টেট।’ তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে জাতির দুর্দিনে জনগণকে দিকনির্দেশনা দিয়ে মানুষের মধ্যে প্রসিদ্ধ হয়েছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে জনগণের মধ্যে অমরত্ব লাভ করেছেন। আপনি দালালদের কথা না শুনে, চাটুকদের কথা না শুনে নিজের বিবেক দিয়ে যে সংস্কারের কথাগুলো জনগণ বলছে এই সংস্কারগুলো করেন।
অলি আহমদ বলেন, আমি দুইটা মিটিংয়ে আগেও বলেছি- একটা বিষয় শুধু আপনার অসুবিধা হতে পারে। সেটা হলো একাধারে প্রধানমন্ত্রী একাধারে সংসদের নেতা একাধারে দলীয় প্রধান। আমাদের প্রস্তাব ছিল যিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন তিনি দলীয় প্রধান থাকতে পারবেন না। এই বিষয়টা নিয়ে আপনি ১১ দলীয় ঐক্যজোটের সাথে কথা বলেন। বাকি কোনো দফা নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন নাই।
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির প্রশংসা করে তিনি বলেন, জামায়াতের রাজনীতি ১৯৭৫ সালের পর থেকে আমি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। আজকে তাদের যে শৃঙ্খলা, তাদের দলের মধ্যে যে রকম ঐক্য, সশস্ত্র বাহিনীতেও এ রকম নাই।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন তো মাঝে মাঝে শুনে আপা আসবে। এখন আপা আসবে আবার সাথে কি দুলাভাই আসবে কিনা আপা তো আসবে কিন্তু এমন সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে সাথে দুলাভাইকেও নিয়ে আসতে হবে। তাহলে আপনারা প্রস্তুত থাকেন ফাঁসির রশি নিয়ে এখানে আসলে এমনে কাজ চলবে না এবার ফাঁসি ঢাকা কারাগারে হবে না সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে করতে হবে।