রবিবার
২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোপনে কারামুক্ত হলেন তৌহিদ আফ্রিদি

এনপিবিনিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৬, ১১:৫১ পিএম
সংগৃহীত ছবি
expand
সংগৃহীত ছবি

জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক তিনটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর কারামুক্ত হয়েছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) অনেকটা গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।

তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট আরও পাঁচটি মামলার এজাহারে তার নাম থাকলেও, সেসব মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।

এর আগে গত বছরের ২৪ আগস্ট রাতে বরিশাল থেকে তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে চলতি বছরের বুধবার (২২ জুলাই) পর্যন্ত প্রায় ১১ মাস কারাগারে ছিলেন তিনি। এরপর তিন মামলায় জামিন মঞ্জুর হওয়ায় তার মুক্তির পথ সুগম হয়।

বিষয়টি পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা দাবি করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান বললেন, ‘তৌহিদ আফ্রিদি পরিচিত ব্যক্তি, তার বিরুদ্ধে কয়টি মামলা আছে পুলিশের জানার কথা। কিন্তু কারাগারে থাকা অবস্থায় তাকে কেন গ্রেপ্তার দেখানো হলো না। এর জন্য সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।’

জানা যায়, তৌহিদ আফ্রিদির বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ৮টি মামলা হয়। এর মধ্যে ওয়ারি থানার একটি ছাড়া অন্য ৭টি মামলায় তিনি এজাহারনামীয় আসামি। এসব মামলার মধ্যে তাকে ওয়ারি থানার প্রতারণা, যাত্রাবাড়ী ও বাড্ডা থানার হত্যাচেষ্টার পৃথক তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তবে এ তিন মামলার বাইরে তার নামে রামপুরা থানার একটি হত্যা এবং বাড্ডা, যাত্রাবাড়ী, মোহাম্মদপুর ও বনানী থানার পৃথক চারটি হত্যাচেষ্টা মামলা রয়েছে। এসব মামলার এজাহারে তার নাম থাকলেও গ্রেপ্তার দেখানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে তথ্য পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সাধারণত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কোনো মামলায় আসামির জামিন হলে ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগকে জানানো হয়। তখন ওই আসামির বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা আছে কি না, তার খোঁজ নেওয়া হয়। মামলা থাকলে আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

জুলাই আন্দোলন ও অন্যান্য মামলায় জামিন পাওয়ার পর কারামুক্ত হয়েছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি। তবে তার বিরুদ্ধে আরও পাঁচটি মামলার এজাহারে নাম থাকলেও সেসব মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।

আদালত ও মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ২৪ আগস্ট রাতে বরিশাল থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলায় আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ৩০ আগস্ট তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

পরে বাড্ডা থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তবে তদন্ত শেষে ওই মামলায় তার অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। এরপর প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ওয়ারী থানার একটি মামলায় গত ১৫ জুন তাকে আবারও গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

হত্যা ও হত্যাচেষ্টার দুই মামলায় তৌহিদ আফ্রিদি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। পরে গত ৪ মে আপিল বিভাগও সেই জামিন বহাল রাখেন। সর্বশেষ গত ২১ জুলাই ওয়ারী থানার প্রতারণা মামলায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এক হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।

সেদিন তার আইনজীবী ইকবাল মাহমুদ জানান, সব মামলায় জামিন পাওয়ায় তৌহিদ আফ্রিদির কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা ছিল না।

কারা অধিদপ্তরের মিডিয়া উইং জানিয়েছে, জামিননামা যাচাই-বাছাই শেষে বৃহস্পতিবার তৌহিদ আফ্রিদিকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানো বাধ্যতামূলক নয়। তদন্তের স্বার্থে কাকে কখন গ্রেপ্তার দেখানো হবে, সে সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে তদন্তকারী সংস্থার ওপর নির্ভর করে। তার মতে, আসামি কারামুক্ত হলেও মামলার তদন্ত কার্যক্রমে কোনো আইনি বাধা সৃষ্টি হবে না।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন