

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গ্রিস থেকে জার্মানিগামী রায়ানএয়ারের একটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজে মাঝ আকাশে জানালা ভেঙে এক যাত্রী প্রায় বাইরে ছিটকে পড়ে যাচ্ছিলেন।
তবে স্ত্রী ও অন্য যাত্রীদের সাহসিকতায় অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন তিনি। উত্তর মেসিডোনিয়ার আকাশসীমায় ঘটা এই রোমহর্ষক ঘটনা এটি।
যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা
গ্রিস থেকে জার্মানিগামী উড়োজাহাজটি ওড়ার মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় এই বিপত্তি ঘটে। বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক ধারণা, আকাশে থাকা অবস্থায় উড়োজাহাজের ডান দিকের ইঞ্জিনটি বিকল হয়ে যায়।
ইঞ্জিনের একটি ভাঙা অংশ ছিটকে এসে জানালার কাচে আঘাত করলে জানালাটি ভেঙে যায়। সাথে সাথে কেবিনের ভেতরের বায়ুচাপ তীব্র বেগে কমে যায় এবং উড়োজাহাজটি মুহূর্তের মধ্যে প্রায় ৯ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে।
নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা
জানালা ভেঙে যাওয়ার সাথে সাথে ৬১ বছর বয়সী যাত্রী লিউবিসা কারোভিচের মাথা ও শরীরের বুক পর্যন্ত অংশ জানালার বাইরে চলে যায়। তবে ভাগ্যবশত তার সিটবেল্ট বাঁধা ছিল।
ঠিক সেই মুহূর্তে তাঁর স্ত্রী স্বেতলানা গ্রকোভিচ দ্রুত স্বামীর পা শক্ত করে চেপে ধরেন। তার সাথে যোগ দেন পাশের আসনের এক তরুণীসহ আরও একজন যাত্রী। চারদিকের চরম বিশৃঙ্খলা, চিৎকার আর অক্সিজেনের অভাবের মধ্যেও এই তিনজন মিলে টানা দুই মিনিট ধরে ঝুলন্ত লিউবিশাকে শক্ত করে ধরে রাখেন এবং একপর্যায়ে তাকে টেনে ভেতরে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন।
সভেতলানা জানান, সেই মুহূর্তে তার মনে একটাই চিন্তা এসেছিল-‘যদি মরতে হয়, তাহলে একসঙ্গেই মরব।’
হঠাৎ বায়ুচাপ কমে যাওয়ায় বিমানের ভেতর স্বয়ংক্রিয়ভাবে অক্সিজেন মাস্কগুলো নিচে নেমে আসে। যাত্রীদের দম বন্ধ হয়ে আসছিল এবং প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে সবাই ভেবেছিলেন বিমানটি বুঝি ভেঙে পড়ছে। অনেকে ভেবেছিলেন কেউ হয়তো ভুল করে জরুরি বহির্গমন দরজা খুলে ফেলেছে।
বর্তমান শারীরিক ও মানসিক অবস্থা
টেনে ভেতরে আনার আগেই বাতাসের প্রচণ্ড চাপ ও ঠান্ডায় লিউবিসার হাত মারাত্মকভাবে জখম হয় এবং শরীরে পোড়ার ক্ষত তৈরি হয়। আতঙ্কে তিনি বিমানের ভেতরেই তিনবার জ্ঞান হারিয়েছিলেন।
বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শারীরিক ক্ষতের পাশাপাশি তিনি ও তার স্ত্রী তীব্র মানসিক ট্রমার মধ্যে আছেন।
স্বেতলানা জানান, তার স্বামী এখন উড়োজাহাজের কথা শুনলেই কাঁপতে শুরু করেন এবং ধাক্কার কারণে ঘটনার অনেক কিছুই এখন মনে করতে পারছেন না।
রায়ানএয়ারের বক্তব্য ও তদন্ত
ঘটনার পরপরই পাইলট বিমানটিকে ঘুরিয়ে আবার গ্রিসের থেসালোনিকি বিমানবন্দরে স্বাভাবিকভাবে অবতরণ করান। বিমান সংস্থা রায়ানএয়ার জানিয়েছে, অবতরণের পর আহত যাত্রীকে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
১৮ বছরের পুরোনো এই উড়োজাহাজটির দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় তদন্ত চলছে।