বুধবার
০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তিতে ইরানের ৫ কঠোর শর্ত

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৬ এএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে বড় আলটিমেটাম দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন সম্প্রতি স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারকের পাঁচটি মূল শর্ত ওয়াশিংটন সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত তেহরান কোনো চূড়ান্ত আলোচনায় বসবে না।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) তেহরানে এক বিবৃতিতে তিনি এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

গালিবাফের এই কঠোর বার্তা দুই দেশের মধ্যে চলতি মাসের শুরুতে স্বাক্ষরিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ নামে পরিচিত অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তির নাজুক পরিস্থিতিকেই ফুটিয়ে তুলেছে। মূলত আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধ এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য অবরোধ প্রত্যাহারের লক্ষ্যেই এই অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

গালিবাফের বক্তব্যের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের অবসান। তিনি উল্লেখ করেন, দ্বিপাক্ষিক এই সমঝোতা স্মারকের মূল শর্ত অনুযায়ী লেবাননে সামরিক অভিযান পুরোপুরি বন্ধ করতে এবং দেশটির সার্বভৌম স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এই আঞ্চলিক চুক্তিটি যেন কঠোরভাবে মেনে চলা হয়, তা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষায়িত যৌথ পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করা হচ্ছে বলে জানান গালিবাফ। এই কমিটিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং লেবাননের প্রতিনিধিরা থাকবেন।

গালিবাফ বলেন, ‘লেবাননে যুদ্ধ অবসানের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করতে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং লেবাননের মধ্যে একটি যৌথ কমিটি গঠন করা হবে। আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এই বিষয়টি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।’

৬০ দিনের এই অস্থায়ী অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটিকে একটি স্থায়ী আইনি চুক্তিতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে বেশ কিছু কড়া শর্ত আরোপ করেছেন ইরানি স্পিকার।

গালিবাফ ঘোষণা করেন, চুক্তির ১, ৪, ৫, ১০ এবং ১১ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত শর্তগুলো ওয়াশিংটনকে অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। এই অনুচ্ছেদগুলোতে মূলত আগ্রাসন বন্ধ করা, নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া এবং ইরানের ওপর থেকে প্রাথমিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এগুলো নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ইরান কোনো চূড়ান্ত খসড়া আলোচনায় অংশ নেবে না।

একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক ব্যাংকে আটকে থাকা নিজস্ব অর্থ ফেরত পেতে বিশ্বমঞ্চে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে তেহরান। গালিবাফ নিশ্চিত করেছেন যে, সমঝোতা স্মারকের ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদের মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়ন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। এই প্রক্রিয়াটি সফল করতে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও কাতারের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সমন্বয় করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোতে আটকে থাকা ইরানের এই বিপুল অর্থ ধাপে ধাপে ছাড় করার আইনি ও লজিস্টিক প্রক্রিয়াটি নিয়ে খুব শিগগিরই দোহারে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Mexico VS Ecuador
Scheduled
01 Jul, 07:00 AM
VS
World Cup