

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ প্যারাগুয়ের বিপক্ষে নাটকীয় লড়াইয়ের পর টাইব্রেকারে বিদায় নিয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে অতিরিক্ত সময়ে জোনাথন তাহের বাতিল হয়ে যাওয়া গোলটি নিয়ে। অনেকের প্রশ্ন, সেই সিদ্ধান্তই কি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে?
ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিটে খেলার ফল ছিল ১-১। ফলে অতিরিক্ত সময়ে খেলা গড়ায়। অতিরিক্ত সময়ের ১২ মিনিটে কর্নারে থেকে ভেসে আসা বলে হেড করে জার্মানিকে এগিয়ে দেন জোনাথন তাহ। প্রথমে গোলের সংকেত দেন রেফারি জালাল জায়েদ। কিন্তু পরে ভিএআরের পরামর্শে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেন তিনি।
পরবর্তীতে রেফারি জালাল টেলিভিশনে রিপ্লে দেখেন। সেখানে দেখা যায়, তাহ হেড করার আগে গোলরক্ষক গিলকে ধাক্কা মেরেছেন ওয়ালডেমার অ্যান্টন। ফলে গোলটি বাতিল করেন রেফারি। পরে টাইব্রেকারে জার্মানি হেরে বিদায় নেয়।
এদিকে রেফারির সিদ্ধান্ত মানতে পারেনি জার্মানি। মাঠেই প্রতিবাদ জানান জোসুয়া কিমিচেরা। কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যানও উত্তেজিত ছিলেন। কিন্তু রেফারি তাঁদের কথায় কান দেননি। খেলা শেষ হওয়ার পরেও প্রশ্ন থামছে না। সত্যিই কি ফাউল ছিল?
এই প্রসঙ্গে ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারার জানিয়েছেন, ‘ফাউল দেওয়ার মতো কিছু হয়নি। আমি রেফারির সিদ্ধান্ত মানতে পারছি না। গোলরক্ষক খুব সহজে পড়ে গিয়েছে। ফুটবল তো বডি কনট্যাক্ট খেলা। বক্সে ১৩ জন ফুটবলার ছিল। সেখানে তো একটু ধাক্কাধাক্কি হবেই। আমি রেফারির সিদ্ধান্ত মানতে পারছি না।’
একই ধরনের মত দিয়েছেন সাবেক আন্তর্জাতিক সহকারী রেফারি ড্যারেন কান। তার মতে, সংস্পর্শটি ছিল খুবই সামান্য। তবে গোলরক্ষকের সঙ্গে সংঘর্ষ হওয়ায় রেফারি সেটিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। অন্য কোনো খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে একই ধরনের সংস্পর্শ হলে হয়তো খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তই থাকত।
গোল বাতিলের পর ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে। শুরুতেই কাই হাভার্টজের শট ঠেকিয়ে দেন অরল্যান্ডো গিল। পরে নিক ওল্টেমেডের প্রচেষ্টাও রুখে দেন তিনি। যদিও প্যারাগুয়ের আন্তোনিও সানাব্রিয়া একটি শট বাইরে মারায় এবং ম্যানুয়েল নয়ার ফাবিয়ান বালবুয়েনার শট ঠেকিয়ে জার্মানিকে লড়াইয়ে ফেরান, তবু শেষ রক্ষা হয়নি।
প্রথম পাঁচ শটে ৩-৩ সমতা থাকার পর ষষ্ঠ শটে জোনাথন তাহের প্রচেষ্টা ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে হোসে ক্যানালে গোল করেন এবং প্যারাগুয়েকে শেষ ষোলোয় তুলে দেন।

