মঙ্গলবার
২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘সুপার এল নিনো’ নিয়ে নাসার সতর্কবার্তা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৬, ০৩:২০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপজুড়ে রেকর্ড তাপপ্রবাহের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। সংস্থাটি বলছে, প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী ‘সুপার এল নিনো’ গড়ে ওঠার স্পষ্ট লক্ষণ পাওয়া গেছে, যা আগামী মাসগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়ায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

নাসার বিজ্ঞানীরা স্যাটেলাইট তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের বেশ কয়েকটি এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সমুদ্রের পানি অস্বাভাবিক উষ্ণ হয়ে উঠলে তা প্রসারিত হয় এবং পানির স্তর উঁচু হয়ে যায়। এই পরিবর্তনকে শক্তিশালী এল নিনোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার সহযোগিতায় পরিচালিত সেন্টিনেল-৬ মাইকেল ফ্রেইলিচ স্যাটেলাইটের পর্যবেক্ষণে গত ৮ জুন এমন অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে। এরপর তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, চলতি বছর এল নিনো একটি শক্তিশালী বা ‘সুপার’ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।

জলবায়ুবিদদের ভাষ্য অনুযায়ী, এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে পানির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। তবে যখন এই উষ্ণতা দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র আকার ধারণ করে, তখন তা বৈশ্বিক আবহাওয়ার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এবারের সুপার এল নিনোর প্রভাব শুধু প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকবে না। উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা এবং এশিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা অনুভূত হতে পারে। ইতোমধ্যেই ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি ও জার্মানিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তীব্র তাপপ্রবাহ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিশ্বের অনেক অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি বৃষ্টিপাতের ধরনেও পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু এলাকায় অতিবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিপরীতে অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মধ্য আমেরিকা এবং এশিয়ার কিছু অঞ্চলে খরার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

সেন্টিনেল-৬ প্রকল্পের বিজ্ঞানী ডা. সেভেরিন ফুরনিয়ে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে ১৯৯৭ সালের ঐতিহাসিক এল নিনোর বেশ কিছু মিল পাওয়া যাচ্ছে। সেই বছরটি আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী এল নিনো হিসেবে বিবেচিত হয়, যার প্রভাব বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দীর্ঘ সময় ধরে অনুভূত হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, শক্তিশালী এল নিনো শুধু আবহাওয়ার অস্বাভাবিকতা তৈরি করে না; এটি কৃষি উৎপাদন, খাদ্য সরবরাহ, পানিসম্পদ ও জনস্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। অতীতে বড় এল নিনো পর্বগুলোর সময় বিভিন্ন অঞ্চলে ফসলহানি, খাদ্যসংকট এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির নজির রয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক তাপমাত্রা এমনিতেই ঊর্ধ্বমুখী। তার ওপর সুপার এল নিনোর প্রভাব যুক্ত হলে ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধ বিশ্বের জন্য আরও উষ্ণ ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিজ্ঞানীরা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Portugal VS Uzbekistan
Scheduled
23 Jun, 11:00 PM
VS
World Cup