

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভোলা পৌরসভায় এক ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধাকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক সজীব তেলিকে (২০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত সজীব ভুক্তভোগী নারীর পুত্রবধূর আপন ছোট ভাই।
এদিকে ঘটনার পর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ওই বৃদ্ধা।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী বৃদ্ধার স্বামী মারা গেছেন এবং তার একমাত্র ছেলে বর্তমানে প্রবাসী। তিনি কালীখোলার বাসায় তার পুত্রবধূর সাথে থাকতেন। গত শনিবার রাতে পুত্রবধূর ভাই সজীব তেলি তাদের বাসায় বেড়াতে আসেন। রাতে খাবার শেষে তারা সবাই আলাদা আলাদা কক্ষে ঘুমাতে যান।
অভিযোগ অনুযায়ী, রাতের কোনো এক সময় সজীব ওই বৃদ্ধার কক্ষে প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণ করে। ভোরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে লোকলজ্জার ভয়ে বৃদ্ধা প্রথমে কাউকে কিছু না জানিয়ে স্থানীয় এক নার্সের কাছে যান এবং ঘটনাটি খুলে বলেন। খবর পেয়ে পুত্রবধূ দ্রুত সেখানে যান এবং শাশুড়ির অবস্থা গুরুতর দেখে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
নিজের আপন ভাইয়ের এমন জঘন্য কর্মকাণ্ডে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর পুত্রবধূ। তিনি নিজেই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সামাজিক ও আইনিভাবে ভাইয়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগীকে বর্তমানে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার শারীরিক অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আরাফাত রহমান জানান: "বৃদ্ধাকে প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়া ও প্রমাণের স্বার্থে ডিএনএ টেস্টসহ প্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।"
ঘটনাটি জানতে পেরে প্রথম থেকেই কঠোর অবস্থানে যায় স্থানীয় প্রশাসন। ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, পুলিশ খবর পেয়েই প্রথমে ভুক্তভোগী নারীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করে এবং আসামিকে ধরতে অভিযান শুরু করে।
অবশেষে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানের মুখে আজ অভিযুক্ত সজীব তেলিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। আটককৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে থানা সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।