

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপের একাধিক দেশে তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন কার্যত থমকে গেছে। ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি, ইতালি, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে সর্বোচ্চ সতর্কতা হিসেবে ‘রেড হিট অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। সাহারা মরুভূমি থেকে আসা গরম ও শুষ্ক বাতাসের প্রভাবে অনেক জায়গায় তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র তাপপ্রবাহগুলোর একটি। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে বিভিন্ন দেশে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এবং শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে হয়েছে।
ফ্রান্সের বোর্দোতে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে পার্ক করা গাড়ির ভেতরে আটকে থাকা দুই ও চার বছর বয়সী দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে জিরোন্দ অঞ্চলে তাপজনিত কারণে তিনজন বয়স্ক ব্যক্তি এবং নদী-হ্রদে সাঁতার কাটতে গিয়ে আরও বহু মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশজুড়ে শত শত স্কুল আংশিক ও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
স্পেনের বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ইতালিতে মিলান, রোম ও ভেনিসসহ একাধিক শহরে রেড অ্যালার্ট কার্যকর রয়েছে। জার্মানিতেও তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যেখানে পানিতে নামতে গিয়ে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
যুক্তরাজ্যের ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে উচ্চমাত্রার তাপ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে গ্রিসে দাবানল পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে, ফলে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক বন্ধ রাখতে হয়েছে। বেলজিয়ামে তীব্র গরমের কারণে ট্রেন চলাচলও আংশিকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এই ধরনের ঘন ঘন ও দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ বৈশ্বিক উষ্ণায়নের স্পষ্ট ইঙ্গিত। ফ্রান্সের আবহাওয়া সংস্থা মেটিও-ফ্রান্সের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালের পর থেকে দেশে ৫১টি তাপপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে ২০০০ সালের পরই ঘটেছে ৩৪টি।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, চলমান তাপপ্রবাহ সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে এবং পরিস্থিতির উন্নতির তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই।
