

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আর্জেন্টিনার ফুটবল তারকা ও জাতীয় দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসির বাবা জর্জ মেসি আর নেই।
শনিবার (৮ আগস্ট) ৬৮ বছর বয়সে রোজারিও শহরে মারা গেছেন তিনি। মেসির শৈশবের ক্লাব নিউওয়েলস ওল্ড বয়েজ এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
জর্জ মেসির মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছে নিউওয়েলস ওল্ড বয়েজ। ক্লাবটি জানিয়েছে, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসির বাবা হিসেবে জর্জ ছিলেন একজন নিবেদিত সমর্থক, ব্যবসায়ী এবং ছেলের ক্যারিয়ারের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।
মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরু থেকে তাঁর পাশে ছিলেন বাবা জর্জ। রোজারিওর স্থানীয় ক্লাবে যখন ফুটবলের হাতেখড়ি নিচ্ছিলেন মেসি, তখনই ছেলের প্রতিভায় আস্থা রেখেছিলেন তিনি। পেশায় ইস্পাতশিল্পের সঙ্গে যুক্ত জর্জ ছেলের শুরুর দিকের ফুটবল জীবনেও কোচের ভূমিকা পালন করেন।
চিকিৎসার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তা
মেসির শৈশবেই কঠিন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয় পরিবার। তাঁর শরীরে গ্রোথ হরমোনের ঘাটতি ধরা পড়লে নিয়মিত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। কিন্তু সেই চিকিৎসার ব্যয় ছিল পরিবারের জন্য বড় চাপ।
ছেলের ফুটবল প্রতিভা যেন চিকিৎসার অভাবে থেমে না যায়, সে জন্য পথ খুঁজতে থাকেন জর্জ। একদিকে ছেলের চিকিৎসা, অন্যদিকে ফুটবল ক্যারিয়ার এগিয়ে নেওয়া, দুটোই চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।
১৩ বছর বয়সে ছেলেকে নিয়ে স্পেনে
২০০০ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সী মেসিকে সঙ্গে নিয়ে স্পেনে পাড়ি জমান জর্জ। লক্ষ্য ছিল বার্সেলোনার যুব একাডেমিতে ছেলেকে সুযোগ করে দেওয়া।
এরপর মেসি যোগ দেন বার্সেলোনার যুব দলে। ক্লাবটি তাঁর প্রয়োজনীয় চিকিৎসার খরচ বহনের দায়িত্ব নেয়। নতুন দেশ, নতুন পরিবেশ ও নতুন জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময়ও ছেলের পাশে ছিলেন জর্জ।
সেখান থেকেই শুরু হয় মেসির বিশ্বজয়ের দীর্ঘ যাত্রা। ধীরে ধীরে তিনি উঠে আসেন বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে। আর পুরো পথেই ছেলের পাশে ছিলেন তাঁর বাবা।
শুধু বাবা নন, ছিলেন এজেন্টও
মেসির ক্যারিয়ারে জর্জের ভূমিকা শুধু বাবার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। পরবর্তীতে তিনি মেসির দীর্ঘদিনের এজেন্ট ও প্রতিনিধি হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
চুক্তি, পারিশ্রমিক, দলবদলসহ ক্যারিয়ারের নানা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের পেছনে জর্জের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। বার্সেলোনায় মেসির দীর্ঘ ক্যারিয়ারেও বাবার উপস্থিতি ছিল দৃশ্যমান।
বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে যাওয়া এবং পরে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার সময়ও জর্জ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার অংশ ছিলেন। ২০২৩ সালে মেসির ইন্টার মায়ামিতে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও বার্সেলোনার সভাপতি হোয়ান লাপোর্তাকে জর্জই জানিয়েছিলেন বলে ক্লাবটি নিশ্চিত করেছিল।
বিশ্বজয়ী ছেলের নেপথ্যে
মেসির ক্যারিয়ারে এসেছে আটটি ব্যালন ডি’অর, বিশ্বকাপসহ অসংখ্য শিরোপা ও ব্যক্তিগত পুরস্কার। তবে সেই মহাতারকার উত্থানের একেবারে শুরুতে ছিলেন তাঁর বাবা জর্জ।
ছেলের প্রতিভায় বিশ্বাস রেখেছিলেন তিনি। কঠিন সময়ে পথ খুঁজেছেন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে ছেলেকে নিয়ে পাড়ি জমিয়েছেন অচেনা এক দেশে। এরপর মেসির ক্যারিয়ারের নানা গুরুত্বপূর্ণ বাঁকেও পাশে থেকেছেন।
মেসির সাফল্যের আলো যতই তাঁর নিজের ওপর পড়ে থাকুক, সেই আলোর পেছনে জর্জ মেসির অবদানও ছিল দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময়জুড়ে। ছেলের বিশ্বজয়ের নেপথ্যের সেই মানুষটিই এবার চলে গেলেন না ফেরার দেশে।