

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


শিরোপা জেতার স্বপ্ন পূরণ হয়নি। টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যও অধরা থেকে গেছে। তবু বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর হতাশার মাঝেও ইতিবাচক দিকগুলোই সামনে আনতে চাইলেন ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। তার বিশ্বাস, ফল প্রত্যাশিত না হলেও দল মাঠে নিজেদের সর্বোচ্চটাই দিয়েছে।
স্পেনের বিপক্ষে সেমিফাইনালে হারের মধ্য দিয়ে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়। কয়েক দিন নীরব থাকার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ এক বার্তায় সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এমবাপে। বিশ্বকাপজুড়ে দলের পাশে থাকার জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান ফরাসি সমর্থকদের এবং বলেন, এই যাত্রা তাদের জন্য গর্বেরই।
এমবাপে লিখেছেন, গত এক মাস ছিল আবেগ, সংগ্রাম ও আত্মনিবেদনের। ফ্রান্সের জার্সি গায়ে প্রতিটি মুহূর্তই বিশেষ ছিল। মাঠে খেলোয়াড়দের লড়াই যেমন অনুপ্রাণিত করেছে, তেমনি গ্যালারি ও টেলিভিশনের সামনে থাকা সমর্থকদের ভালোবাসাও তাদের শক্তি জুগিয়েছে।
শিরোপা না জেতার হতাশা তিনি লুকাননি। তার মতে, এই আক্ষেপ সহজে মুছে যাবে না। তবে খেলাধুলায় সব সময় কাঙ্ক্ষিত সমাপ্তি বেছে নেওয়া যায় না। একজন খেলোয়াড়ের হাতে থাকে কেবল নিজের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দেওয়ার সুযোগ, আর সেটিই করার চেষ্টা করেছে পুরো দল।
তিনি বলেন, ‘আমরা দলগত এই শিরোপা জিততে পারিনি। এটা বেদনাদায়ক এবং আরও কিছু সময় সেই ব্যথা থাকবে। এটা নিয়ে আপনাদের মিথ্যা বলব না। হয়তো আমাদের কাছে আরও ভালো শেষ চেয়েছিলেন আপনারা। তবে গল্প কীভাবে শেষ হবে তা আমরা সবসময় বেছে নিতে পারি না; বরং আমরা এতে কী নিবেদন করছি তা বেছে নিই এবং আমরা আমাদের যথাসাধ্য সবকিছু উজাড় করে দিই।’
ব্যক্তিগতভাবে এবারের আসরটি এমবাপের জন্য স্মরণীয়। ১০ গোল করে তিনি জিতেছেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার স্বীকৃতি। তবে এই অর্জনকে নিজের একার কৃতিত্ব হিসেবে দেখছেন না তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমার যতটা, দলেরও ঠিক ততটাই,’ জোর দিয়ে বলেন তিনি। তার কথা, ‘তাদের কঠোর পরিশ্রম, তাদের মুভমেন্ট, তাদের পাস এবং প্রথম ম্যাচ থেকে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত আমাদের বয়ে নিয়ে যাওয়া দলীয় মনোভাব না থাকলে আমি এতগুলো গোল করতে পারতাম না।’
এবারের বিশ্বকাপ ছিল এমবাপের তৃতীয়। ছোটবেলায় অন্তত একবার বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখেছিলেন, আর এখন তিনটি বিশ্বকাপ খেলার পাশাপাশি একটি শিরোপাও জিতেছেন। এর সঙ্গে এবার অধিনায়ক হিসেবে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতাকে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় প্রাপ্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
সময়ের পার্থক্যের কারণে ফ্রান্সের অনেককে গভীর রাতে খেলা দেখতে হয়েছে। এই বিষয়টি উল্লেখ করে ভক্তদের বিশেষ ধন্যবাদ জানালেন এমবাপে, ‘আপনারা ঘরে, ক্যাফেতে, আপনাদের পরিবার বা বন্ধুদের সাথে পুরো ফ্রান্স এবং এর বাইরে একত্রিত হয়েছেন। অন্যান্যরা স্টেডিয়ামে আমাদের সাথে উপস্থিত ছিলেন, কাঁধে পতাকা বহন করছিলেন।’
তিনি বলে গেলেন, ‘উজ্জ্বল চোখে শিশু, সমস্ত ব্যাকগ্রাউন্ড ও প্রজন্মের নারী-পুরুষ, সবাই একটি আনন্দে একত্রিত হয়েছেন: অংশগ্রহণের আনন্দ।’ তার আরও কথা, ‘এটিই এই খেলার শক্তি। এবং আপনারা কখনোই আমাদের হতাশ করেননি, এমনকি সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তেও, যখন আমরা সবচেয়ে কম যোগ্য ছিলাম তখনও।’
প্রধান কোচ দিদিয়ার দেশম এবং তার ব্যাকরুম টিমও এমবাপের কৃতজ্ঞতা পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তার এবং তার সমস্ত স্টাফদের ধন্যবাদ: ফিজিওথেরাপিস্ট, শেফ, কোচ, ড্রাইভার, এই সব মানুষ যাদের কেউ দেখে না এবং যাদের ছাড়া এর কোনোটিই সম্ভব হতো না।’
বার্তার শেষ অংশে ফুটবলের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথাও তুলে ধরেন এমবাপে। তার মতে, ফুটবল সহজ কিছু নিয়মের খেলা হলেও এই সরলতার মধ্যেই লুকিয়ে আছে এর সৌন্দর্য। বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে, কিন্তু ফুটবলের যাত্রা থেমে নেই। সামনে নতুন ম্যাচ, নতুন চ্যালেঞ্জ এবং আবারও সমর্থকদের সঙ্গে নতুন গল্প লেখার অপেক্ষায় আছেন তিনি।