

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নতুন কোচের খোঁজে দীর্ঘ অপেক্ষার পর শেষ পর্যন্ত পরিচিত মুখের ওপরই আস্থা রাখতে যাচ্ছে ইতালি। পেপ গার্দিওলাকে দায়িত্ব দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী আন্দ্রে পিরলোর সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এফআইজিসি)। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০৩০ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করবেন সাবেক এই মিডফিল্ডার।
ইতালির সংবাদমাধ্যম লা রিপাবলিকা জানিয়েছে, পিরলোর সঙ্গে চার বছরের চুক্তির বিষয়ে দুই পক্ষ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী বছরে প্রায় ১৫ লাখ ইউরো পারিশ্রমিক পাবেন তিনি। এছাড়া ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ও বিশ্বকাপে দলকে জায়গা করে দেওয়া এবং অন্যান্য সাফল্যের জন্য অতিরিক্ত বোনাসও থাকবে।
তবে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে সই করেননি পিরলো। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব দুবাই ইউনাইটেডের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। জাতীয় দলের দায়িত্ব নিতে হলে প্রথমে তাকে বর্তমান ক্লাবের সঙ্গে চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে হবে।
ইতালির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এএনএসএ জানিয়েছে, এফআইজিসি এখনো নিয়োগ ঘোষণার নির্দিষ্ট দিন ঠিক করেনি। ফলে সমঝোতা হলেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
নতুন কোচ নিয়োগে ইতালির প্রথম পছন্দ ছিলেন পেপ গার্দিওলা। ম্যানচেস্টার সিটির দায়িত্ব ছাড়ার পর তার সঙ্গে আলোচনা চালায় ফেডারেশন। এমনকি তাকে দলে আনতে বেতনের প্রচলিত কাঠামোতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ফেডারেশন সভাপতি জিওভান্নি মালাগো। তবে কিছুদিন কোচিং থেকে বিরতিতে থাকার সিদ্ধান্তে অটল থাকায় সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন গার্দিওলা।
এরপর দ্রুতই পিরলোর সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নেয় এফআইজিসি। ইতালির টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পাওলো মালদিনি সাবেক সতীর্থ পিরলোকে জাতীয় দলের দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে। এর আগে ব্রাজিলের বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলত্তির সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিল ইতালি।
খেলোয়াড়ি জীবনে ইতালির হয়ে ১১৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন পিরলো। ২০০৬ সালে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম প্রধান সদস্য ছিলেন তিনি। ক্লাব ফুটবলে ইন্টার মিলান, এসি মিলান ও জুভেন্টাসের হয়ে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করা এই মিডফিল্ডারকে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা প্লেমেকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
কোচ হিসেবে তার অভিজ্ঞতা তুলনামূলক কম হলেও জুভেন্টাসের দায়িত্ব নিয়ে প্রথম মৌসুমেই ইতালিয়ান কাপ ও ইতালিয়ান সুপার কাপ জিতেছিলেন তিনি। পরে তুরস্কের ফাতিহ কারাগুমরুক, ইতালির সাম্পদোরিয়া এবং সর্বশেষ দুবাই ইউনাইটেডে দায়িত্ব পালন করেন।
টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হওয়ার পর গত এপ্রিলে জাতীয় দলের কোচের পদ ছাড়েন জেন্নারো গাত্তুসো। এরপর থেকেই নতুন পথচলার জন্য একজন উপযুক্ত কোচের খোঁজে ছিল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।