

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দেশের জনপ্রিয় সুরকার, সংগীত পরিচালক ও কণ্ঠশিল্পী ইবরার টিপু প্রায় দুই বছর ধরে মরণব্যাধি কিডনি ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছেন। এর মধ্যে তাকে নিতে হয়েছে থেরাপি এবং সহ্য করতে হয়েছে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার।
এই দীর্ঘ ও কঠিন চিকিৎসার ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার (ব্রেইন সার্জারি) সম্পন্ন হয়েছে।
দীর্ঘদিনের জটিল চিকিৎসার ক্লান্তি এবং মনের গভীর একাকীত্ব থেকে গত সোমবার (২৭ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন এই শিল্পী। পোস্টটিতে হাসপাতালের কঠিন সময়ের কথা তুলে ধরে তিনি লেখেন:
‘আমি আল্লাহর কাছে বিচার দিয়ে রাখলাম। আল্লাহ তুমি মাফ করো না। আমার সবচেয়ে কষ্ট, আমার বাবা নেই, মা থেকেও নেই। আর একজন এতিমের কেউ থাকে না আসলে।’
তিনি নিজের মনের কষ্ট ব্যক্ত করে আরও লেখেন, গত দুই বছর ধরে হাসপাতালের এত যন্ত্রণা সহ্য করার পর আর কিছু বলার নেই। ঘরে তৈরি খাবারের ভাগ্য হয়তো তার আর হবে না।
পরিবারের সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত থাকায় তিনি হাসপাতালের আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকেন- যদি কেউ এসে মুখে একটু হাসি নিয়ে তার সাথে কথা বলে এবং সময়টুকু সহজে কেটে যায়।
চার দিন আগে ব্রেইন সার্জারি হলেও স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে সবাই নিজ কাজে ব্যস্ত রয়েছে জানিয়ে তিনি সবার শুভকামনা করেন।
ইবরার টিপুর এই স্ট্যাটাসের পর দিন, মঙ্গলবার সকালে, তার স্ত্রী ও সংগীতশিল্পী মরিয়ম আক্তার কনা (বিন্দু কণা) ফেসবুকে একটি ক্ষোভ ও আক্ষেপভরা পোস্ট দিয়ে সবাইকে অপ্রয়োজনীয় কল বা মেসেজ দেওয়া থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান। তিনি লেখেন:
‘দয়া করে আমাকে কেউ কল বা মেসেজ করবেন না। পারলে দোয়া করেন, না পারলে মনের আনন্দে কিছু একটা পোস্ট করেন। না হয় এসে সাহায্য করেন। আর তাও যদি না পারেন তাহলে দিন গোনেন। আল্লাহ যেন আপনাদেরও এমন একটা সময় পার করায়। মানুষ হন, আল্লাহ হেদায়েত দিক আপনাদের।’
তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে স্বকীয় শক্তিতে কাজ করে যাচ্ছেন ইবরার টিপু। ২০১১ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে তার সুর ও সংগীতে তৈরি স্বাগত গান ‘ও পৃথিবী এবার এসে বাংলাদেশ নাও চিনে’ বিশ্বজুড়ে দারুণ প্রশংসিত হয়।
এ ছাড়া অসংখ্য রিয়েলিটি শো এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পীদের বহু জনপ্রিয় গানের সংগীত আয়োজনের পেছনের কারিগর তিনি।