

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) একজনের, অথচ সেই পরিচয় ব্যবহার করে পাসপোর্ট করা হয়েছে অন্য একজনের নামে। এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহে।
একই নাম, পিতা-মাতার নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ব্যবহার করে পাসপোর্ট ইস্যু এবং তা গ্রহণের ঘটনায় পরিচয় নিরাপত্তা ও পাসপোর্ট যাচাই ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ঘটনাটি পরিচয় জালিয়াতি, নাকি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্য যাচাইয়ে গুরুতর গাফিলতি তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
ভুক্তভোগী মো. তোফায়েল আহামেদ (২৪) ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার ভাটি সাভার গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জানান, গত ২৬ জুলাই ২০২৬ ময়মনসিংহ বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে নতুন ই-পাসপোর্টের আবেদন করে গিয়ে তিনি বিস্ময়কর তথ্য জানতে পারেন। বায়োমেট্রিক তথ্য (ছবি ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট) দেওয়ার সময় কর্মকর্তারা তাঁকে জানান, তাঁর পূর্বেই একটি পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়েছে। ফলে তিনি নতুন করে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেননি।
পরে বিষয়টি নিয়ে তিনি ময়মনসিংহ বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য আইনি জটিলতা এড়াতে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার আবেদন করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট পাসপোর্টটি ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর পশ্চিম ঢাকার একটি পাসপোর্ট অফিস থেকে গ্রহণ করা হয়। তবে পাসপোর্টে নাম ‘তোফায়েল আহামেদ’ থাকলেও পাসপোর্ট গ্রহণকারীর স্বাক্ষরের স্থানে ‘টুপায়েল’ নামে স্বাক্ষর রয়েছে। একই ব্যক্তির নামে ভিন্ন ধরনের স্বাক্ষর থাকায় বিষয়টি আরও রহস্যজনক হয়ে উঠেছে।
ভুক্তভোগী মো. তোফায়েল আহামেদ বলেন, আমার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, নাম এবং বাবা-মায়ের পরিচয় ব্যবহার করে অন্য একজন কীভাবে পাসপোর্ট তৈরি করলেন এবং সেটি সংগ্রহও করলেন, তা আমার বোধগম্য নয়। আমি এ ঘটনায় চরম উদ্বিগ্ন। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক শামীম আহমেদকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল করে পাওয়া যায়নি ফলে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের নিরাপত্তা এবং পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এ ধরনের ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়াবে।
পরিচয় জালিয়াতির এ অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।