

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্ব ফুটবলে ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় যে কোনো দলের জন্যই বিশেষ অর্জন। আর সেটা যদি হয় হাইতির মতো তুলনামূলক ছোট একটি ফুটবল জাতির জন্য, তাহলে তা রীতিমতো ইতিহাস। শনিবার (২০ জুন) ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের মুখোমুখি হওয়ার আগে সেই পুরোনো স্মৃতিই নতুন করে আলোচনায় এসেছে ক্যারিবীয় দেশটির ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে।
১৯৯৯ সালের ৮ জুন। ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে অনুষ্ঠিত ক্যারিবিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে ব্রাজিলকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল হাইতি। ফলাফলটি আজও দেশটির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
মজার বিষয় হলো, এই ম্যাচটির অস্তিত্ব জনপ্রিয় অনেক ফুটবল পরিসংখ্যানভিত্তিক ডেটাবেসে প্রায় অনুপস্থিত। ব্রাজিল ও হাইতির মুখোমুখি লড়াই বলতে সাধারণত ১৯৭৪, ২০০৪ ও ২০১৬ সালের তিনটি ম্যাচের তথ্যই বেশি দেখা যায়। অথচ ১৯৯৯ সালের সেই স্মরণীয় জয় ইতিহাসের আড়ালেই থেকে গেছে।
সেই ম্যাচ নিয়ে এখনো রয়েছে নানা ধরনের তথ্যগত অসঙ্গতি। কোথাও বলা হয় প্রথমার্ধ গোলশূন্য ছিল, আবার কিছু সূত্রের দাবি, বিরতির আগেই এগিয়ে গিয়েছিল হাইতি। তবে একটি বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই—শেষ পর্যন্ত স্কোরলাইন ছিল ৪-৩, আর বিজয়ী ছিল হাইতি।
তখনকার ব্রাজিল দলটি অবশ্য মূল জাতীয় দল ছিল না। ক্যারিবিয়ান কাপের আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেও ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন সেখানে পাঠিয়েছিল তরুণ খেলোয়াড়দের একটি দল। ফলে রোনালদো, রিভালদো, কাফু কিংবা রবার্তো কার্লোসদের দেখা মেলেনি সেই স্কোয়াডে।
তবে সেই দলে এমন কয়েকজন ফুটবলার ছিলেন, যারা পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে পরিচিত নাম হয়ে ওঠেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন লুইসাও, এদু দ্রাসেনা, ফ্যাবিও রোশেমব্যাক ও মার্সিনহোর মতো খেলোয়াড়।
বছর কয়েক পর সেই ম্যাচের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ব্রাজিলের সাবেক ফুটবলার হুলিয়ানো ভিচেনতিনি বলেছিলেন, হাইতির শারীরিক সক্ষমতা ও শক্তি তাদের বিস্মিত করেছিল। তাঁর ভাষায়, তারা এমন একটি দলের বিপক্ষে খেলছিলেন, যারা শক্তি, গতি ও অভিজ্ঞতায় অনেক এগিয়ে ছিল।
সেই অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের ফলে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল ব্রাজিলকে। অন্যদিকে হাইতি পৌঁছে যায় সেমিফাইনালে। যদিও শেষ পর্যন্ত ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর কাছে হেরে শিরোপার স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় তাদের।
দুই দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে ব্রাজিল এখনও পরাশক্তি, আর হাইতি এখনো আন্ডারডগ। তবু ইতিহাসের পাতায় লেখা সেই ৪-৩ গোলের জয় আজও মনে করিয়ে দেয়—ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই।
