

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২১ জুন প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন। দেশটিতে দুই দিনের সফর শেষে তিনি সেখান থেকে চীনের উদ্দেশে রওনা দেবেন।
২৩ জুন চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামে (ডব্লিউইএফ) যোগ দিবেন।
বৈঠকে অংশ নেওয়ার আগে তিনি দুই দিনের সফরে মালয়েশিয়া যাবেন। সেখানে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের এর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে।
যদিও প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচী নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কিছুই জানানো হয়নি।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলো হতে পারে দেশটির বৃহত্তম বন্দর ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এমএমসি পোর্টস-এর চেয়ারম্যান এবং এয়ারএশিয়া ও পেট্রোনাস গ্রুপের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে।
সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে একটি বিশেষ ফ্লাইট ২১ জুন ঢাকা ত্যাগ করবেন। পরদিন সকালে মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানাবেন।
সফরের অংশ হিসেবে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকের পর তাদের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া তাদের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সামনে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, মালয়েশিয়া সফরের দ্বিতীয় দিনে তারেক রহমান দেশটির রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইবনে আলমারহুম সুলতান ইসকান্দারের বাসভবনে যাবেন তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলেছে, মালয়েশিয়া সফরের সময় প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়ার বন্দর ব্যবস্থাপনাকারী বৃহত্তম গ্রুপ এমএমসি পোর্টসের চেয়ারম্যান, এয়ার এশিয়ার চেয়ারম্যান ও পেট্রোনাস গ্রুপের চেয়ারম্যানের সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে।
সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের সফরে চীন পৌঁছানোর কথা রয়েছে ২২ জুন। দেশটির দালিয়ান শহরে পরদিন তার ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অ্যালয়েস জুইঙ্গির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে।
ওই দিনই দালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে প্রধানমন্ত্রীর ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন আ শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’- শীর্ষক একটি সেশনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, চীন সফরের তৃতীয় দিনে দালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউ চ্যাম্পিয়নস অব ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ১৭তম বার্ষিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরকালে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। এতে প্রায় ১৫টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের চার মাস পর প্রথম বিদেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৩ জুন দালিয়ানে তিনি ডব্লিউইএফের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্রজ বেন্ডের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের আলোচ্য বিষয়গুলো হলো: নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে চীনা বিনিয়োগ, বৈদ্যুতিক যান শিল্পে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, বাংলাদেশে ইভি উৎপাদনে চীনা বিনিয়োগ, বেইজিংয়ে বড় বিনিয়োগ সম্মেলন আয়োজন, চীনা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সরাসরি, যোগাযোগ বৃদ্ধি, অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক প্রকল্প।
এছাড়াও আলোচনায় আসতে পারে সেগুলো হলো-দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, যমুনা নদীর ওপর নতুন সেতু, প্রায় ৪০ বিলিয়ন টাকার অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্প (চীনা ঋণ সহায়তায়), চীনা মুদ্রায় বন্ড ইস্যু, দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা, বাংলাদেশে চীনা ব্যাংক স্থাপন এবং ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা। বিভিন্ন মিডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীন-বাংলাদেশ পাকিস্তান ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতার বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে।
গত বছর চীনের উদ্যোগে কুনমিংয়ে তিন দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হয়েছিল। বৈঠকটি নাইসথ চায়না সাউথ এশিয়া এক্সপোশন গেজ সিকসথ চায়না-সাউথ কোঅপারেশন ফোরামের সাইডলাইনে অনুষ্ঠিত হয়।
সেখানে সম্ভাব্য ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়েছিল এবং একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে এখনো সেই উদ্যোগ দৃশ্যমান অগ্রগতি লাভ করেনি।
