মঙ্গলবার
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপে ম্যাচ ফিক্সিং হয়েছে কিনা, জানালো ফিফা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:০২ এএম
সংগৃহীত ছবি
expand

২০২৬ বিশ্বকাপে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের নানা অভিযোগ ও বিতর্কের মধ্যে নতুন বিবৃতি দিয়েছে ফিফা।

সংস্থাটি জানিয়েছে, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে পরিচালিত তদন্তে কোনো ম্যাচে সন্দেহজনক বেটিং কার্যক্রম বা ম্যাচ কারসাজির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপে মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন।

বিশ্বকাপ চলাকালে বেশ কয়েকটি ম্যাচের রেফারিং নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে হারের পর মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন সংশ্লিষ্ট রেফারিদের বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার দাবি তোলে।

মিশরের কোচ হোসাম হাসান অভিযোগ করেছিলেন, ফিফা নাকি লিওনেল মেসিকে টুর্নামেন্টে ধরে রাখতে চেয়েছিল। পরে ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কলিনা এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন।

এদিকে, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে ফিফার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ থাকা একটি পোস্টে লাইক দেওয়ার ঘটনা নিয়েও ব্যাপক আলোচনা হয়। এর পরপরই ফিফা তাদের তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করে।

ফিফা জানায়, ফিফা ইন্টিগ্ৰিটি টাস্ক ফোর্স পুরো বিশ্বকাপজুড়ে ম্যাচগুলোর বেটিং বাজার ও মাঠের ঘটনাপ্রবাহ তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। এই টাস্কফোর্সে ছিলেন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা, যার মধ্যে ছিল-

• এফবিআই (FBI) • ইন্টারপোল (INTERPOL) • জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (UNODC) • কাউন্সিল অব ইউরোপ • ইন্টারন্যাশনাল বেটিং ইন্টেগ্রিটি অ্যাসোসিয়েশন (IBIA) • এবং বিভিন্ন ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিশেষজ্ঞরা।

ফিফা এক বিবৃতিতে জানায়,‌ ‘প্রতিযোগিতা চলাকালে সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা তথ্যের ভিত্তিতে কোনো ম্যাচে সন্দেহজনক বেটিং কার্যক্রম বা ম্যাচ কারসাজির ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।’

ফিফার সিনিয়র ইন্টেগ্রিটি ম্যানেজার লিয়াম রিচ বলেন, এই যৌথ উদ্যোগ সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত ও তথ্য আদান-প্রদানের জন্য একটি শক্তিশালী কাঠামো তৈরি করেছে। ভবিষ্যতের টুর্নামেন্ট, বিশেষ করে আগামী বছরের নারী বিশ্বকাপেও এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।

ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগে কোনো প্রমাণ না মিললেও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে ঘিরে ফিফার দুটি আলাদা তদন্ত এখনো চলছে।

প্রথম তদন্তটি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল জয়ের পর খেলোয়াড়দের প্রদর্শিত ‘Las Malvinas son Argentinas’ (মালভিনাস/ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার) লেখা ব্যানারকে কেন্দ্র করে।

দ্বিতীয় তদন্তটি স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালের পর ঘটে যাওয়া সংঘর্ষ নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, লিয়ান্দ্রো প্যারেদেস, নাহুয়েল মোলিনা এবং সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালা স্পেনের কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে শারীরিক সংঘর্ষে জড়িয়েছিলেন।

ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি এ ঘটনায় একজন শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বিষয়ক প্রসিকিউটর নিয়োগ করেছে। তদন্তে যদি শৃঙ্খলাবিধির ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জরিমানা, নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank