

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


প্রবাসে থেকে পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠানো টাকা আত্মসাৎ ও সেই অর্থে জমি কেনার অভিযোগে করা মামলায় বাদী মোহাম্মদ হান্নান মিয়ার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্ত প্রতিবেদনে ছয় আসামির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণা ও পরস্পর যোগসাজশের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ৭ নম্বর আদালতের বিচারক সারাহ ফারজানা হকের আদালতে ডিবি এ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর আদালত এতে সন্তুষ্ট হয়ে ছয় আসামির বিরুদ্ধে সমনের আদেশ দিয়েছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম সবুজ এ তথ্য জানিয়েছেন।
মামলার বাদী মোহাম্মদ হান্নান মিয়া একজন প্রবাসী। দীর্ঘ প্রবাসজীবনে উপার্জিত অর্থ পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় খরচ ও সম্পত্তি কেনার জন্য দেশে পাঠাতেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণ টাকা পাঠান।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামি মো. হেদায়েত শরীফের জাতীয় পরিচয়পত্রের পিন নম্বর ব্যবহার করে বাদীর কাছ থেকে মোট ৫ লাখ ১৯ হাজার ২২৮ টাকা নেওয়া হয়। এছাড়া আসামি লাইলি বেগমের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের হিসাবে ২৫ লাখ ৩ হাজার ৯০০ টাকা এবং তার বিকাশ নম্বরে আরও ১ লাখ ৫১ হাজার ৯২৭ টাকা পাঠানো হয়। সব মিলিয়ে তদন্ত প্রতিবেদনে বাদীর পাঠানো অর্থের পরিমাণ ৩১ লাখ ৭৫ হাজার ৫৫ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, পরিবারের সদস্যরা তার কাছ থেকে টাকা নিয়ে তার নামে জমি ও গরু কেনার কথা বলেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তার নামে জমি না কিনে আসামি লাইলি বেগমের নামে জমি কেনা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাদীর কাছ থেকে নেওয়া টাকা দিয়ে মাদারীপুর সদর থানাধীন নাওটানা গ্রামের এলাকায় জমি কেনা হয়েছে।
মামলার আসামিদের মধ্যে ১ নম্বর আসামি আকাশ শরীফ বাদীর ভাই। ২ নম্বর আসামি স্বর্ণা খানম আকাশ শরীফের স্ত্রী, অর্থাৎ বাদীর ভাবি। ৩ নম্বর আসামি মো. হেদায়েত শরীফ বাদীর বাবা এবং ৪ নম্বর আসামি লাইলি বেগম বাদীর মা। ৫ নম্বর আসামি ইশরাত জাহান লামিয়া বাদীর বোন। ৬ নম্বর আসামি মনিরা আক্তার ডালিয়াকেও তদন্ত প্রতিবেদনে পরিবারের নিকটাত্মীয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে আকাশ শরীফকে ঘিরেও অর্থ নেওয়ার অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নথি অনুযায়ী, আকাশ শরীফ কাতারে থাকতেন এবং তাকে কাতারে পাঠানো ও সেখানে থাকার খরচ বাদী বহন করেছিলেন। পরে আকাশ শরীফকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে ২০ লাখ টাকার চুক্তিতে একজন লোক ঠিক করা হয়। এ ঘটনায় বাদীর কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩০ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে আকাশ শরীফের হাতে ৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। বাকি ১৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকা বিভিন্ন আসামির ব্যাংক ও বিকাশ হিসাবে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে এসব টাকা নিয়ে বাদীর সঙ্গে আসামিদের বিরোধ সৃষ্টি হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বাদী তার পাওনা টাকা ফেরত চাইলে আসামিরা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বললেও পরবর্তীতে তা পরিশোধ করেননি। এ ঘটনায় বাদী আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মামলার ঘটনাস্থল হিসেবে তদন্ত প্রতিবেদনে যাত্রাবাড়ী থানাধীন বাসা নম্বর-২৭, স্বপন মুধা রোড, কাজীগাঁও জামে মসজিদ এলাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তবে সেখানে কোনো সাক্ষী পাওয়া যায়নি এবং কোনো বস্তুগত আলামতও জব্দ করা সম্ভব হয়নি বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া বাদী মামলার ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো কাগজপত্র বা জব্দযোগ্য বস্তুগত আলামত তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দিতে পারেননি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
তবে তদন্তকালে পাওয়া সাক্ষ্য-প্রমাণ, ব্যাংক লেনদেনের তথ্য এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা বিশ্লেষণ করে ডিবি ছয় আসামির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণা ও পরস্পর যোগসাজশের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দিয়েছে।
অন্যদিকে, হুমকি দেওয়ার অভিযোগের পক্ষে কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে ওই অভিযোগ থেকে আসামিদের অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে।
ডিবির তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের পর বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম সবুজ বলেন, তদন্তে বাদী মোহাম্মদ হান্নান মিয়ার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। ডিবির তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের পর আদালত সন্তুষ্ট হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে সমনের আদেশ দিয়েছেন।
আদালত মামলাটির পরবর্তী ধার্য তারিখ নির্ধারণ করেছেন ১২ অক্টোবর।


