মঙ্গলবার
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন অধিদপ্তরে বদলি-পদায়নে ‘দর’ ৫ থেকে ৫০ লাখ, পদোন্নতিতেও প্রশ্ন

শাহীন মাহমুদ রাসেল
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত
expand

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন অধিদপ্তরের ভবনের দেয়ালে বন রক্ষা ও সবুজায়নের নানা বার্তা। অথচ এই দপ্তরের ভেতরেই বদলি ও পদায়নকে ঘিরে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাষ্য, পদ ও কর্মস্থলভেদে বদলি-পদায়নের জন্য ৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ‘দর’ রয়েছে। নির্ধারিত মেয়াদ শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডেপুটি রেঞ্জারদের পদোন্নতি ও গ্রেডেশন তালিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন। গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর ৪৫৪ জন ফরেস্টারকে ডেপুটি রেঞ্জার পদে পদোন্নতি দেয় বন অধিদপ্তর। সরকারি নথিতেও ওই পদোন্নতির অফিস আদেশের তথ্য রয়েছে।

কিন্তু এই পদোন্নতির মাত্র নয় মাসের মধ্যে তাদের মধ্য থেকে ২৮৯ জনকে ফরেস্ট রেঞ্জার পদে পদোন্নতির জন্য বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) সুপারিশ পাঠানো হয় বলে সংশ্লিষ্ট নথি ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে। নিয়োগবিধি অনুযায়ী, ডেপুটি রেঞ্জার হিসেবে মাঠপর্যায়ে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা রেঞ্জার পদে পদোন্নতির জন্য প্রয়োজন, এমন দাবি করে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতির মাধ্যমে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণেও বৈষম্য হয়েছে। ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বরকে কার্যকর তারিখ ধরে ৪৫৪ জনের গ্রেডেশন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে দীর্ঘদিন আগে চাকরিতে যোগ দেওয়া অনেক কর্মকর্তা পিছিয়ে পড়েছেন, আর অপেক্ষাকৃত কম সময় চাকরি করা কেউ কেউ তাঁদের ওপরে উঠে গেছেন।

পদোন্নতির এই প্রক্রিয়া নিয়ে সংবাদমাধ্যমে এর আগে অনিয়ম, জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন ও ২৮৯ জনকে রেঞ্জার পদে পদোন্নতির সুপারিশ নিয়ে অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে।

বদলি-পদায়নে ‘দর’

বন বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ পদ ও কর্মস্থলে বদলি-পদায়নের ক্ষেত্রে একটি অলিখিত অর্থের কাঠামো রয়েছে বলে অভিযোগ।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই বছরের জন্য রেঞ্জ কর্মকর্তা পদে প্রথম শ্রেণির কর্মস্থলে ১৫ লাখ, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ১০ লাখ এবং তৃতীয় শ্রেণিতে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

চেকপোস্ট বা স্টেশন কর্মকর্তা পদে এক বছরের জন্য প্রথম শ্রেণিতে ২০ লাখ, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ১০ লাখ এবং তৃতীয় শ্রেণিতে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সবচেয়ে বেশি অর্থ লেনদেনের অভিযোগ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বা ডিএফও পদে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, দুই বছরের জন্য প্রথম শ্রেণির এলাকায় ৫০ লাখ, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৩০ লাখ এবং তৃতীয় শ্রেণিতে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ‘দর’ রয়েছে।

নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের কথাও বলেছেন অভিযোগকারীরা।

বদলি-পদায়নে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের সঙ্গে সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে একই ধরনের অর্থের অঙ্ক উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে রেঞ্জ কর্মকর্তা, চেকপোস্ট বা স্টেশন কর্মকর্তা এবং ডিএফও পদে আলাদা ‘দর’-এর কথা বলা হয়েছে।

দুদকের অভিযানেও অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি

বদলি-পদায়ন ও সুফল প্রকল্পের অনিয়ম নিয়ে ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি বন অধিদপ্তরে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট টিম।

অভিযান শেষে ২৬ ফেব্রুয়ারি কমিশনে দেওয়া প্রতিবেদনে বদলি-পদায়ন নীতিমালা-২০০৪ অনুসরণ না করে অর্থের বিনিময়ে পছন্দের কর্মস্থলে কর্মকর্তাদের পদায়নের অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি থাকার কথা বলা হয়। নিয়মিত অনুসন্ধানের সুপারিশও করা হয়।

সুফল প্রকল্প নিয়েও অনিয়মের অভিযোগের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। প্রকল্পের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় বাস্তবে বনায়ন না করেই অর্থ ব্যয়, কোথাও সীমিত পরিসরে চারা রোপণ এবং কোথাও শুধু প্রকল্পের সাইনবোর্ড স্থাপনের অভিযোগ পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তবে দুদকের ওই প্রতিবেদনের পর নিয়মিত অনুসন্ধান বা দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

দুদকের উপপরিচালক আকতারুল গণমাধ্যমকে বলেন, সুফল প্রকল্পসংক্রান্ত অভিযোগের প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো বিশ্লেষণ করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বন অধিদপ্তরের অন্যান্য প্রকল্প ও খাতের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নয় মাসেই ২৮৯ জনকে রেঞ্জারে সুপারিশ

বন অধিদপ্তরের নথি অনুযায়ী, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে ৪৫৪ জন ফরেস্টারকে ডেপুটি রেঞ্জার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই পদোন্নতির মাত্র নয় মাসের মধ্যে ৪৫৪ জনের মধ্য থেকে ২৮৯ জনকে ফরেস্ট রেঞ্জার পদে পদোন্নতির জন্য পিএসসিতে সুপারিশ পাঠানো হয়।

এখানেই মূল প্রশ্নটি উঠেছে, ডেপুটি রেঞ্জার হিসেবে মাঠপর্যায়ে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা যেখানে পদোন্নতির শর্ত, সেখানে নয় মাসের মধ্যে এতজনকে রেঞ্জার পদে পদোন্নতির জন্য সুপারিশ করা হলো কীভাবে?

এ নিয়ে বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বক্তব্য, বিষয়টি আইন ও বিধি অনুযায়ী করা হয়েছে এবং চূড়ান্ত যাচাইয়ের দায়িত্ব পিএসসির।

ভূতাপেক্ষ পদোন্নতিতে জ্যেষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন

৪৫৪ জনের ডেপুটি রেঞ্জার পদে পদোন্নতির কার্যকর তারিখ ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। অর্থাৎ ২০২৫ সালে দেওয়া পদোন্নতিকে প্রায় পাঁচ বছর আগের তারিখ থেকে কার্যকর দেখানো হয়েছে।

এ ধরনের ভূতাপেক্ষ পদোন্নতির কারণে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে সমস্যা হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি। তাদের অভিযোগ, ২০০০, ২০০৪ ও ২০০৫ সালে নিয়োগ পাওয়া ফরেস্টারদের কেউ কেউ ২০১৪ সালে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের পেছনে চলে গেছেন।

গ্রেডেশন তালিকার ১৬৯ থেকে ২৫৪ নম্বর পর্যন্ত ৮৬ জনের প্রকৃত পদোন্নতির তারিখ একে অপরের তুলনায় প্রায় ১০ বছর পর্যন্ত আগে হলেও সবার জন্য একই কার্যকর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বন অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ ডেপুটি রেঞ্জারদের খসড়া গ্রেডেশন তালিকা প্রকাশ করে আপত্তি, অভিযোগ বা পরামর্শ জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

তালিকায় অভিযোগ থাকা কর্মকর্তাদের নাম

গ্রেডেশন তালিকায় থাকা কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা, দুর্নীতির অভিযোগ কিংবা চাকরিচ্যুতির তথ্য রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।

মনিরুল করিম তালিকার ৭২ নম্বরে রয়েছেন। বর্তমানে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগে কর্মরত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে একসময় চাকরিচ্যুতির তথ্য এবং বিভাগীয় মামলা চলমান থাকার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাদিকুন মাহমুদ তালিকার ১০৭ নম্বরে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগে কর্মরত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ হরিণ শিকার ও মাছ ধরার অনুমতি দেওয়ার অভিযোগে চাকরিচ্যুতির তথ্য রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানান।

চিন্ময় মধু তালিকার ২০৬ নম্বরে। তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নথির বরাতে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। তার স্ত্রী ও বাবার নামে থাকা ১৪৪ ভরি স্বর্ণ এবং ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা জব্দের তথ্যও তারা উল্লেখ করেছেন।

মো. সরওয়ার জাহান তালিকার ২০৫ নম্বরে। সুফল প্রকল্পের আওতায় এক হাজার হেক্টর বনায়নে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

এ ছাড়া আরও কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্ত, চাকরিচ্যুতি, অর্থ আত্মসাৎ কিংবা সরকারি অর্থ জমা না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।

তবে এসব অভিযোগের কোনোটিই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। মামলা বা বিভাগীয় ব্যবস্থা চলমান থাকাও অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার সমান নয়।

আদালতে একাধিক মামলা

ডেপুটি রেঞ্জারদের গ্রেডেশন নিয়ে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, আদালতের স্থগিতাদেশ বহাল থাকা অবস্থাতেই গ্রেডেশন-সংক্রান্ত কার্যক্রম চালানো হয়। এ ছাড়া মামলা নম্বর ২১২/২০২৬ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

অভিযোগকারীদের দাবি, ২৯ জুলাই ওই মামলায় নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন আদালত। এর মাত্র চার দিন পর, ২ আগস্ট, নিষেধাজ্ঞাটি ‘ভ্যাকেট’ (প্রত্যাহার) করার আদেশ দেওয়া হয়। আদালতের আদেশ কার্যকর থাকা এবং এর মধ্যে প্রশাসনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন অভিযোগকারীরা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালত বা বন অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগীর বক্তব্য

ফরেস্টার থেকে ডেপুটি রেঞ্জার পদে পদোন্নতিতে ১০ শতাংশ পদ সংরক্ষণের বিধান থাকলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে পদোন্নতি পাওয়া কয়েকজন ডেপুটি রেঞ্জারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে। সুফল বনায়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে শতাধিক ডেপুটি রেঞ্জারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে বলেও দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট একজন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ব্যক্তি বলেন, রাজিব উদ্দিন, ইব্রাহীম খলিল রকি, মনিরুল করিম ও সাদেক মাহমুদসহ তালিকাভুক্ত অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন ডেপুটি রেঞ্জারের বিরুদ্ধে এখনো বিভাগীয় মামলা চলছে। এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে গোপন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, ফরেস্ট রেঞ্জার পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া নিয়ে আদালতে সাতটি মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও পদোন্নতির জন্য তালিকা পাঠানো হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ভুক্তভোগীর বলেন, ১০ মে ২০২৬ আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পরও বন অধিদপ্তর ১২ মে ৮৬১ নম্বর স্মারক জারি করে এবং ১৪ মে ডেপুটি রেঞ্জার পদে গ্রেডেশন তালিকা নিয়ে শুনানি করে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা অবস্থায় এসব কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

ওই ভুক্তভোগী আরও বলেন, বিভাগীয় মামলা চলমান থাকা অবস্থায়ও কয়েকজন কর্মকর্তাকে ডেপুটি রেঞ্জার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে তানভীর খলিল (২৮৪), রাজিব ইব্রাহিম (৪১৯), সাদিক মাহমুদ (১০০), আফসার (১৪৭), চিন্ময় মধু (১৯৫) ও মনিরুল করিম (৬৬) রয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। তাদের মধ্যে চিন্ময় মধুর বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ বা অনুসন্ধান চলমান রয়েছে বলেও দাবি তার।

ভুক্তভোগী জানান, আদালতের নিষেধাজ্ঞা, বিভাগীয় মামলা ও দুদকের অনুসন্ধানের বিষয়গুলো বিবেচনায় না নিয়ে পদোন্নতি ও গ্রেডেশন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়ে থাকলে, এতে পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়।

বন অধিদপ্তরের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বন অধিদপ্তরের সিএফ (অ্যাডমিন) এস এম মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘সব নিয়মকানুন মেনেই গ্রেডেশন তালিকা করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমার চেয়ে ভালো বলতে পারবেন হুমায়ুন কবির সাহেব।’

ডিসিএফ হুমায়ুন কবির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আইন অনুযায়ী তালিকায় সবার নাম রাখতে হয়। সেই মোতাবেক সবার নাম রেখেই আমরা পাঠিয়ে দিয়েছি। পাশাপাশি যাদের বিরুদ্ধে মামলা কিংবা অভিযোগ রয়েছে, তাও উল্লেখ করে চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। এখন সেগুলো যাচাইয়ের দায়িত্ব পিএসসির।’

আদালতের আদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যতদিন মামলা চলমান ছিল, ততদিন এই কার্যক্রম বাক্সবন্দী করে রেখেছিলাম। আদালত ভ্যাকেট আদেশ দেওয়ার পরই সব জায়গায় নোটিশ পাঠিয়ে তালিকাটি করে পাঠানো হয়েছে।’

হুমায়ুন কবির আরও বলেন, ‘গ্রেডেশন তালিকা তৈরি করে সবার কাছে নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে উল্লেখ থাকে, কারও কোনো অভিযোগ থাকলে তা জানাতে। এতে প্রায় ৬৪টির মতো আবেদন পেয়েছিলাম। তাদের সঙ্গে বসে কী কী কারণে তারা পিছিয়ে পড়েছেন, তা আইনিভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।’

তিনি দাবি করেন, ‘তালিকা পাঠানো হলেও যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তারা পদোন্নতি পাবেন না।’

প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর বক্তব্য জানতে তার কার্যালয়ে গেলে তিনি কোনো বক্তব্য দেবেন না বলে জানান।

বদলি-পদায়নে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি, জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ এবং মামলা বা বিভাগীয় অভিযোগ থাকা কর্মকর্তাদের গ্রেডেশন তালিকায় রাখার বিষয়গুলো এখন বন অধিদপ্তরের পদোন্নতি প্রক্রিয়াকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। অন্যদিকে অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, তারা আইন ও আদালতের আদেশ মেনেই কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।

ফলে মূল প্রশ্ন এখন দুটি, বদলি-পদায়নে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের তদন্ত কতদূর এগিয়েছে এবং পদোন্নতি ও গ্রেডেশন প্রক্রিয়ায় ওঠা প্রশ্নগুলোর নিষ্পত্তি কীভাবে হবে।বন অধিদপ্তরে বদলি-পদায়নে ‘দর’ ৫ থেকে ৫০ লাখ, পদোন্নতিতেও প্রশ্ন

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank