

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনার পাশাপাশি টিকিটের বাজারেও দেখা দিয়েছে নজিরবিহীন চাহিদা। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিটের দাম এবার সব রেকর্ড ভেঙে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়া ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ইভেন্টে পরিণত হয়েছে।
আগামী রোববার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও স্পেন মুখোমুখি হবে শিরোপার লড়াইয়ে। এই ম্যাচকে কেন্দ্র করে টিকিটের চাহিদা এতটাই বেড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টিকিট বিক্রয় প্ল্যাটফর্ম টিকপিকের তথ্য অনুযায়ী গড় টিকিটের মূল্য পৌঁছেছে ১১ হাজার ৩২৭ ডলারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১৪ লাখ টাকা। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত কোনো ক্রীড়া ইভেন্টের ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ গড় টিকিটমূল্য।
বর্তমানে ফাইনালের সবচেয়ে কম দামের টিকিটও বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৯৪৩ ডলারে। যদিও আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার আগে এই টিকিটের দাম ছিল প্রায় ৭ হাজার ২০০ ডলার। দুই ফাইনালিস্ট নিশ্চিত হওয়ার পর দাম কিছুটা কমলেও তা এখনও আকাশছোঁয়া।
সবচেয়ে দামী টিকিটের মূল্য উঠেছে ২৮ হাজার ৪৭৯ ডলারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৫ লাখ টাকার সমান। মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ১১৫এ সেকশনের দুটি আসনের জন্য এই মূল্য গুনেছেন এক ক্রেতা। ফলে দুটি টিকিটের মোট দাম দাঁড়িয়েছে ৫৬ হাজার ৯৫৮ ডলার।
টিকপিকের পরিসংখ্যান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ক্রীড়া ইভেন্টের তালিকায় এখন শীর্ষে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল। এর পর রয়েছে ২০২৪ সালের সুপার বোল এলভিআইআইআই (গড় মূল্য ৯,৪১১ ডলার), ২০২১ সালের সুপার বোল এলভি (৭,৩১৩ ডলার), ২০২০ সালের সুপার বোল এলআইভি (৬,৫৪৬ ডলার) এবং ২০২৬ সালের এনবিএ ফাইনালের তৃতীয় ম্যাচ (৬,৩০৮ ডলার)।
এদিকে, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের সবচেয়ে কম দামের টিকিট বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৯০০ ডলারে। ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়ার পর ওই ম্যাচের টিকিটের মূল্য প্রায় ৩০০ ডলার কমে গেছে।
টিকিট বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সিটপিকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপ ফিফার ৯৬ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিশ্বকাপে পরিণত হয়েছে। টুর্নামেন্টের শুরুতে গড় টিকিটের দাম ছিল ১ হাজার ৬২২ ডলার, যা সেমিফাইনাল পর্বে বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ১৬২ ডলারে।
তবে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে টিকিটের দাম শুধু বাড়েনি। পুনর্বিক্রয় (রিসেল) বাজারে কয়েকটি ম্যাচের টিকিটের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেও যায়। বিশেষ করে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল বিদায় নেওয়ার পর স্পেন-বেলজিয়াম কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিটের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত নেমে আসে।
শুরুতে কত ছিল ফাইনালের টিকিট?
প্রথম ধাপে টিকিট বিক্রির সময় ফিফা ফাইনাল ম্যাচের সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করেছিল ১০ হাজার ৯৯০ ডলার। পুনর্বিক্রয় বাজারের হিসাব বাদ দিলে সাধারণ দর্শকদের জন্য ফুটবল ইতিহাসে এটিই ছিল সর্বোচ্চ নির্ধারিত টিকিটমূল্য।
তবে টিকিট বিক্রির পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই সমালোচনার মুখে পড়ে ফিফা। একবারে সব টিকিট বাজারে না ছেড়ে সংস্থাটি ধাপে ধাপে বিক্রি করেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ডায়নামিক প্রাইসিং বা পরিবর্তনশীল মূল্যব্যবস্থার কারণে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টিকিটের দামও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।
এ কারণে অনেক সমর্থকের অভিযোগ, ২০২৬ বিশ্বকাপ সাধারণ দর্শকদের নাগালের বাইরে চলে গিয়ে ধনীদের আসরে পরিণত হয়েছে। সমর্থকদের এই সমালোচনার পর ফিফা জানিয়েছে, ২০৩০ বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রির কৌশল নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে।
