

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। ট্রফির পাশাপাশি টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষককে দেওয়া ‘গোল্ডেন গ্লাভস’ পুরস্কার নিয়েও চলছে তুমুল আলোচনা।
এ দৌড়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন স্পেনের উনাই সিমন ও আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। এছাড়া ফ্রান্সের মাইক মাইনিয়ঁ ও ইংল্যান্ডের জর্ডান পিকফোর্ডও ছিলেন আলোচনায়।
চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন উনাই সিমন। সাত ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করেছেন স্প্যানিশ এই গোলরক্ষক এবং রেখেছেন ছয়টি ক্লিন শিট।
সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে গোলশূন্য রাখার মাধ্যমে এক আসরে সর্বোচ্চ ছয়টি ক্লিন শিটের নতুন বিশ্বকাপ রেকর্ড গড়েন তিনি। একই সঙ্গে স্পেনও এক বিশ্বকাপে সর্বাধিক ছয়টি ক্লিন শিটের দলীয় রেকর্ড গড়ে।
এ ছাড়া কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোল খাওয়ার আগে টানা ৬৪৯ মিনিট গোল না খেয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দীর্ঘতম ক্লিন শিট ধারার কীর্তিও গড়েন সিমন। এসব পরিসংখ্যানের কারণে গোল্ডেন গ্লাভসের দৌড়ে তাকেই এগিয়ে রাখছেন অনেক বিশ্লেষক।
অন্যদিকে, ২০২২ বিশ্বকাপের গোল্ডেন গ্লাভসজয়ী এমিলিয়ানো মার্তিনেজও এবার বড় মঞ্চে নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করেছেন। নকআউট পর্বে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলতে বড় ভূমিকা রেখেছেন তিনি।
তবে টুর্নামেন্টে রাউন্ড অব ৩২-এ কেপ ভার্দে, রাউন্ড অব ১৬-তে মিশর এবং কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে মোট পাঁচটি গোল হজম করেছেন মার্তিনেজ। ফলে ফাইনালে তার পারফরম্যান্সই ব্যক্তিগত এই পুরস্কারের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
ফ্রান্সের মাইক মাইনিয়ঁ সেমিফাইনালে বিদায় নিলেও পুরো টুর্নামেন্টে ছিলেন দলের অন্যতম ভরসা। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তার একাধিক সেভ ফ্রান্সকে এগিয়ে নিয়েছে। বল পায়ে খেলার দক্ষতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং রক্ষণভাগকে সংগঠিত রাখার সামর্থ্যের জন্য প্রশংসাও কুড়িয়েছেন তিনি। তবে দল ফাইনালে উঠতে না পারায় তার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে গেছে।
ইংল্যান্ডের জর্ডান পিকফোর্ডও অভিজ্ঞতার ছাপ রেখে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেছেন। রক্ষণভাগকে নেতৃত্ব দিয়ে ইংল্যান্ডের সাফল্যে অবদান রাখলেও সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়ায় গোল্ডেন গ্লাভস জয়ের সম্ভাবনা তারও কমে এসেছে।
গোল্ডেন গ্লাভস নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধু গোল হজমের সংখ্যা নয়, ক্লিন শিট, গুরুত্বপূর্ণ সেভ, বড় ম্যাচে প্রভাব এবং পুরো টুর্নামেন্টে গোলরক্ষকের সামগ্রিক অবদান বিবেচনা করা হয়। তাই স্পেন-আর্জেন্টিনা ফাইনালে উনাই সিমন ও এমিলিয়ানো মার্তিনেজের পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করতে পারে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারের বিজয়ীকে।
