

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মাঝ আকাশে বিমানের একটি জানালা খুলে যাওয়ায় প্রায় বাইরে ছিটকে পড়েছিলেন এক যাত্রী। তবে সিটবেল্ট বাঁধা থাকায় তিনি বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও বাস্তবে এমন ঘটনাই ঘটেছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রিস থেকে জার্মানিগামী রায়ানএয়ারের একটি ফ্লাইটে মাঝ আকাশে একটি জানালা খুলে যাওয়ায় এক ব্যক্তি প্রায় বিমান থেকে বাইরে ছিটকে পড়েছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিটবেল্ট না খোলায় ওই যাত্রী বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান। পরে অন্য যাত্রীরা তাকে ভেতরে টেনে আনতে সক্ষম হন।
দুর্ঘটনাকবলিত ওই যাত্রী সার্বিয়ার একজন পর্যটক। তিনি গ্রিসের থেসালোনিকি থেকে জার্মানির মেমিঙ্গেনে যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনায় আহত হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তিনি আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিমানে হঠাৎ বিকট শব্দ ও চিৎকারে যাত্রীরা জেগে ওঠেন। এরপর ওই যাত্রীকে জানালার বাইরে মাথা ও কাঁধ বের হয়ে থাকা অবস্থায় দেখা যায়।
বিমানের এক যাত্রী জানান, ‘আমরা বেশিরভাগই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। হঠাৎ টায়ার ফেটে যাওয়ার মতো বিকট একটি শব্দ হয়।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সঙ্গে সঙ্গেই বুঝতে পারলাম যে কেবিনের বায়ুচাপ কমে গেছে। চারদিকে চিৎকারের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। এক মুহূর্তের জন্য আমার মনে হয়েছিল, কেউ হয়তো ভুল করে জরুরি দরজাটি খুলে দিয়েছে।’
ওই যাত্রী আরও বলেন, ‘এ সময় বিমানের অক্সিজেন মাস্কগুলো নিচে নেমে আসে এবং তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। একজন যাত্রীর মাথা ও কাঁধ জানালার বাইরে ছিল। সৌভাগ্যবশত তিনি সিটবেল্ট বাঁধা অবস্থায় ছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘লোকটির কাছাকাছি থাকা অন্য যাত্রীরা তাকে টেনে তুলতে সাহায্য করেছিলেন।’
গ্রিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিমানটির একটি ইঞ্জিন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া ধ্বংসাবশেষের একটি টুকরোর আঘাতে জানালাটি ভেঙে গিয়েছিল। উত্তর মেসিডোনিয়ার আকাশে এ ঘটনা ঘটে।
রায়ানএয়ার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর ফ্লাইটটির একটি জানালা খুলে যাওয়ায় সেটি থেসালোনিকিতে ফিরে আসে। পরে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে এবং যাত্রীরা টার্মিনালে ফিরে যান।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, অবতরণের পর যাত্রীদের মেমিঙ্গেনে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি বিকল্প বিমানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
সূত্র: এনডিটিভি
