

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর নাটকীয় লড়াইয়ে মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচের ফলের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে ও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) কয়েকটি সিদ্ধান্ত। বিশেষ করে মিশরের একটি গোল বাতিল এবং আর্জেন্টিনার গোলের আগে ফাউলের আবেদন নাকচ হওয়া নিয়ে বিতর্ক চলছে।
এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোর ব্যাখ্যা দিয়েছেন ইংল্যান্ডের সাবেক রেফারি ও ভিএআর কর্মকর্তা অ্যান্ডি ডেভিস। ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএনের বিশ্লেষণে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, কেন দুটি ঘটনায় ভিন্ন সিদ্ধান্ত এসেছে।
কেন বাতিল হলো মিশরের গোল
ম্যাচের ৬২ মিনিটে মোস্তফা জিকোর গোলে ব্যবধান ২-০ করেছিলেন মিশর। তবে ভিএআরের পরামর্শে রেফারি গোলটি বাতিল করেন।
রিপ্লে পর্যালোচনায় দেখা যায়, গোলের আক্রমণ শুরু হওয়ার ঠিক আগে মিশরের ডিফেন্ডার মারওয়ান আত্তিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের জার্সি টেনে ধরেন এবং তার পায়ের ওপর চাপ দেন। ভিএআরের মতে, এটি ফাউল ছিল এবং সেই ফাউল থেকেই আক্রমণের ধারাবাহিকতায় গোলটি আসে।
অ্যান্ডি ডেভিসের মতে, আক্রমণের সূচনায় হওয়া ফাউলটি সরাসরি গোলের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। তাই খেলার নিয়ম অনুযায়ী গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত যথাযথ। যদিও ঘটনাটি পেনাল্টি এলাকার বাইরে ঘটেছিল, তবুও একই আক্রমণপর্বে ফাউল থেকে গোল এলে সেটি বাতিল করা যায়।
কেন বহাল থাকল আর্জেন্টিনার গোল
ম্যাচের শেষ দিকে মিশর আর্জেন্টিনার বক্সের ভেতরে দুটি ফাউলের অভিযোগ তোলে। একটি ঘটনায় হামদি ফাতির জার্সি ধরে রাখার অভিযোগ ছিল অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের বিরুদ্ধে। অন্য ঘটনায় মোহাম্মদ সালাহকে ফাউল করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে হুলিয়ান আলভারেজের বিরুদ্ধে।
ভিএআর দুটি ঘটনাই পর্যালোচনা করলেও রেফারির সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের মতো স্পষ্ট ভুল খুঁজে পায়নি। ফলে খেলা চলতে থাকে এবং পরবর্তী আক্রমণে আর্জেন্টিনা গোল করে।
ডেভিসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ম্যাক অ্যালিস্টারের জার্সি ধরা খুব অল্প সময়ের জন্য ছিল এবং সেটি প্রতিপক্ষের খেলায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেনি। তাই পেনাল্টি দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত কারণ সেখানে ছিল না।
সালাহর ঘটনায়ও তার মতে, আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডারের স্পষ্ট ফাউলের চেয়ে দুই খেলোয়াড়ের স্বাভাবিক শারীরিক সংস্পর্শই বেশি ছিল। পরিস্থিতিতে সালাহ সহজেই ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান, তবে সেটিকে পেনাল্টি দেওয়ার মতো স্পষ্ট ফাউল হিসেবে দেখা যায়নি।
ম্যাচজুড়ে রেফারির একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক থাকলেও অ্যান্ডি ডেভিসের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ভিএআর ও অন-ফিল্ড রেফারি দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাতেই ফুটবলের প্রচলিত আইন অনুসারেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এসব সিদ্ধান্ত নিয়ে সমর্থক ও বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

