

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে ব্রাজিলের বিদায় নিশ্চিতের পথে নরওয়ের অন্যতম নায়ক আর্লিং হালান্ড।
এই তারকা স্ট্রাইকার দলের দুটি গোলই করেছেন। অথচ এই ম্যাচে নামার আগে ‘ব্রাজিলকে হারানো অসম্ভব’ বলেছিলেন হালান্ড।
ম্যাচ শেষে তার সেই ভুল ভেঙেছে। সেটাই অকপটে স্বীকার করে হালান্ড বললেন, ‘নরওয়ের প্রতিটি শিশু এখন বিশ্বাস করবে- কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।’
নরওয়েজিয়ান সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হালান্ড বলেন, ফুটবলে কিছু বিষয় তিনি অসম্ভব বলে মনে করতেন। তবে রোববারের ফলাফল তাকে ভুল প্রমাণ করেছে।
তিনি বলেন, ‘আমি প্রায় বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। জীবনে কখনও ভাবিনি এমন কিছু ঘটবে। নরওয়ের হয়ে বিশ্বকাপে খেলাই ছিল আমার স্বপ্ন, কিন্তু আমরা ব্রাজিলকে হারাব– এটা কখনও কল্পনাও করিনি।’
‘সত্যি বলতে আমি মনে করতাম ফুটবলে কিছু জিনিস অসম্ভব। কিন্তু মনে হচ্ছে আমি ভুল ছিলাম। আমরা বল দখল করে খেলার বিষয়টি নিজেদের ফুটবল দর্শনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পেরেছি।
সহজভাবে বলতে গেলে খেলোয়াড় হিসেবে এবং একটি জাতি হিসেবে আমরা অনেক বেশি আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্ব অর্জন করেছি’, আরও যোগ করেন ২৫ বছর বয়সী এই স্ক্যান্ডিনেভিয়ান তারকা।
ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে নরওয়ে। এর আগে বিশ্বকাপে তাদের সেরা সাফল্য ছিল ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পৌঁছানো।
এমন জয়ের পর হালান্ডকে নিয়ে স্তুতি চললেও, সতীর্থ ও কোচদের সেই কৃতিত্ব দিলেন ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা, ‘ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোল করার বিষয়টি আমার কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তবে এই গোলগুলো কেবল আমার একার নয়।’
নরওয়েতে এই রাতটি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও বিশ্বাস হালান্ডের, ‘এগুলো তাদের সবার, আমার সেসব সতীর্থের যারা সর্বস্ব উজাড় করে খেলেছে, সেসব কোচের যারা আমাদের ওপর আস্থা রেখেছিল, সেসব সমর্থকের যারা কঠিন সময়েও আমাদের পাশে ছিল এবং নরওয়ের সেসব শিশুর যারা এখন বিশ্বাস করে যে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।
নরওয়ের প্রতিটি ঘরে এই রাতটি চিরকাল মনে রাখা হবে। আমরা কেবল ব্রাজিলকেই হারাইনি, বরং আমাদের জাতিকে এমন এক স্মৃতি উপহার দিয়েছি যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম বেঁচে থাকবে।’
কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে লড়তে হবে বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে কী ঘটবে তা ভাবতে চান না হালান্ড।
বরং এখনকার ঐতিহাসিক মুহূর্তটাই উপভোগ করতে চান, এরপর যা-ই ঘটুক না কেন, এই অনুভূতি, এই চোখের জল কিংবা ইতিহাসের এই অংশটুকু– এর কোনো কিছুই কেউ আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নিতে পারবে না।

