সোমবার
০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যবসায়ীর অণ্ডকোষ চেপে ধরে চেকে স্বাক্ষর আদায়, গ্রেপ্তার ২

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম
জোর করে চেক ও স্ট্যম্পে সই নেওয়া হয়। ছবি: সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নেওয়া
expand
জোর করে চেক ও স্ট্যম্পে সই নেওয়া হয়। ছবি: সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নেওয়া

বরিশাল নগরে এক আবাসন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) মারধর এবং অণ্ডকোষে চেপে ধরে চেক ও স্ট্যাম্পে সই আদায় করে নেওয়ায় ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আদালতের নির্দেশে এফআইআর গ্রহণের পর আজ রবিবার (৫ জুলাই) বিকেলে নগরের ‘টপ টেন’ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন - মোস্তাফিজুর রহমান লিটু ও আবুল কালাম আজাদ।

গত বৃহস্পতিবার বরিশাল নগরের সদর রোড এলাকায় অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডের কার্যালয়ে লাঞ্ছিত হন আবাসন কোম্পানির এমডি আবদুল আজিজ হাওলাদার।

ভুক্তভোগী আবদুল আজিজ হাওলাদার অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাকে জোর করে ছয়টি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও ৭০ লাখ টাকার একটি চেকে সই করতে বাধ্য করা হয়।

স্থানীয় লোকজনের অনেকে অভিযুক্ত লিটুকে যুবদলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত বলে দাবি করলেও বরিশাল মহানগর যুবদল তা অস্বীকার করেছে। আজ এক সংবাদ সম্মেলনে মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুন জানান, লিটু কখনো কোনো পদে ছিলেন না এবং এর সঙ্গে তার কোনো সম্পর্কও নেই।

লিটুর ভাই বরিশাল মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মাহবুবুর রহমান পিন্টু দাবি করেছেন, ঘটনাটি ‘যেভাবে তুলে ধরা হচ্ছে, সেভাবে ঘটেনি’। এ বিষয়ে লিটুর কাছ থেকে সরাসরি বক্তব্য জানার পরামর্শ দেন তিনি।

বরিশাল মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার বেলাল হোসেন জানান, ভুক্তভোগী ব্যক্তি এ ঘটনায় আদালতে একটি অভিযোগ দায়ের করলে আদালত কোতোয়ালি মডেল থানাকে সেটি এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন। এর ভিত্তিতে রবিবার বিকেলে নাম উল্লেখ করা ওই দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরীয়ত উল্লাহ অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে নিতে কোতোয়ালি মডেল থানাকে নির্দেশ দেন। আদালত বেঞ্চের সহকারী রাজিব মজুমদার গতকাল নিশ্চিত করেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আদালতের সেই নির্দেশ থানায় পাঠানো হয়েছে।

ওই অভিযোগে লিটুসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়।

সাংবাদিকদের আবদুল আজিজ হাওলাদার বলেন, লিটু আগে তাদের আবাসন কোম্পানির ব্যবসায়িক অংশীদার (পার্টনার) ছিলেন। ২০২৩ সালে লিটুর শেয়ারের বিপরীতে জমি হস্তান্তরের মাধ্যমে তাদের মধ্যে সব আর্থিক পাওনা চুকিয়ে ফেলা হয়। ওই সময় তাদের মধ্যে আর কোনো দেনা-পাওনা নেই মর্মে লিখিত ঘোষণাপত্রও দেওয়া হয়।

তিনি জানান, সবকিছু মিটিয়ে ফেলার পরও গত কয়েক মাস ধরে লিটু তার কাছে ১ কোটি টাকা দাবি করছিলেন। কিন্তু হিসাব নিকাশ মিটে যাওয়ায় তিনি এই টাকা দিতে অস্বীকার করেন।

অভিযোগে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে লিটু তার কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডের কার্যালয়ে প্রবেশ করে আবদুল আজিজকে মারধর করেন। এ সময় তাকে জোর করে ৭০ লাখ টাকার একটি চেক ও ছয়টি ফাকা স্ট্যাম্পে সই করতে বাধ্য করেন লিটু।

আবদুল আজিজ হাওলাদার আরও জানান, ঘটনার পরপরই তিনি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালে অভিযুক্তরা চেক ভাঙাতে ব্যর্থ হন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত লিটুর বক্তব্য জানতে চেষ্টা করলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এর আগে শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ (ভিডিও) ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি অফিসের ভেতরে আবদুল আজিজের ওপর চড়াও হন। একজন তাকে আটকে রাখেন। এ সময় তারা কক্ষে থাকা অন্য কর্মীদের বের হয়ে যেতে বলেন। এমনকি ওই কোম্পানির এক কর্মী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকেও সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

ভাইরাল হওয়া ওই ফুটেজে আবদুল আজিজকে চড়-থাপ্পড় মারা এবং তার সামনে স্ট্যাম্প ও চেক রেখে তাতে জোর করে সই নিতে দেখা যায়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
LIVE
Brazil VS Norway
45'+6'
0 - 0
World Cup