

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্বকাপের গোলের সৌন্দর্যের পাশাপাশি দর্শকদের আগ্রহের আরেকটি জায়গা শটের গতি। কোনো খেলোয়াড়ের শট কতটা জোরালো ছিল, সেটিও এখন নির্ভুলভাবে মাপা সম্ভব হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায়। আর সেই হিসাবেই এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দ্রুতগতির শট থেকে গোল করার রেকর্ড গড়েছেন সেনেগালের মিডফিল্ডার পাপে গেয়ে।
ফিফার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে ইরাকের বিপক্ষে পাপে গেয়ের নেয়া শটের গতি ছিল ঘণ্টায় ১৩১ দশমিক ৯৪ কিলোমিটার। এটিই এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের সবচেয়ে দ্রুতগতির শটে করা গোল। বিশ্বকাপে সেনেগালের অভিযান শেষ হলেও ব্যক্তিগত এই কীর্তি আপাতত তারই দখলে রয়েছে।
এর আগে সবচেয়ে দ্রুতগতির গোলের তালিকায় শীর্ষে ছিলেন সুইজারল্যান্ডের মিডফিল্ডার ইয়োহান মানজাম্বি। কানাডার বিপক্ষে তার শটের গতি ছিল ঘণ্টায় ১২৮ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার। তবে পাপে গেয়ে প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার বেশি গতির শটে গোল করে তাকে পেছনে ফেলেছেন।
এই তালিকার তৃতীয় স্থানে আছেন নরওয়ের থেলো আসগার্ড। গ্রুপ পর্বে ফ্রান্সের বিপক্ষে তার দুর্দান্ত শটের গতি ছিল ঘণ্টায় ১২৫ দশমিক ৯৫ কিলোমিটার। যদিও সেই ম্যাচে হার এড়াতে পারেনি নরওয়ে, তবু আসগার্ডের গোলটি ছিল টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী শটের একটি।
বিশ্বকাপের সবচেয়ে জোরালো শটের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন কেপ ভার্দের কেভিন পিনাও। উরুগুয়ের বিপক্ষে তিনি ঘণ্টায় ১২৫ দশমিক ২২ কিলোমিটার গতির শটে গোল করেন। ৩১ গজেরও বেশি দূর থেকে নেয়া সেই শটটি শুধু গতির কারণেই নয়, দূরত্বের দিক থেকেও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। কারণ, সবচেয়ে দ্রুতগতির শট থেকে হওয়া গোলগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বেশি দূর থেকে করা গোল। একই সঙ্গে এটি ছিল বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের ইতিহাসের প্রথম গোল।
শেষ ষোলোর খেলা শুরু হওয়ার আগে সবচেয়ে দ্রুতগতির ১০টি গোলের মধ্যে ৯টিই এসেছে গ্রুপ পর্বে। নকআউট পর্ব থেকে এই তালিকায় জায়গা করে নিতে পেরেছেন মাত্র একজন ফুটবলার। তিনি মিসরের মোহামেদ সাবের। ডালাসে শেষ ৩২ দলের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে নেয়া তার পেনাল্টি শটও জায়গা পেয়েছে সেরা ১০ দ্রুতগতির গোলের তালিকায়।
এই পরিসংখ্যান নির্ধারণে ব্যবহার করা হচ্ছে বিশ্বকাপের অফিশিয়াল বল ‘ট্রিওন্ডা’র ভেতরে স্থাপন করা ইনারশিয়াল মেজারমেন্ট ইউনিট (আইএমইউ) সেন্সর। বলের ভেতরে অত্যন্ত হালকা এই সেন্সর বসানো হয়েছে এমনভাবে, যাতে বলের ভারসাম্য বা পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব না পড়ে।
স্টেডিয়ামের চারপাশে স্থাপন করা ১৬টি বিশেষ ক্যামেরার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে এই প্রযুক্তি। ক্যামেরাগুলো বল ও খেলোয়াড়দের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫০ বার করে প্রতিটি খেলোয়াড়ের ২৯ ধরনের ডেটা সংগ্রহ করে। সেই তথ্য বিশ্লেষণ করেই শটের গতি, বলের গতিপথ এবং ম্যাচের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান নির্ধারণ করা হয়।
অবশ্য এই প্রযুক্তি নতুন নয়। এর আগে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ এবং ২০২৩ নারী বিশ্বকাপেও একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করেছিল ফিফা ও অ্যাডিডাস। ফলে দর্শক ও বিশ্লেষকদের কাছে শুধু গোল নয়, গোলের পেছনের গতিবিজ্ঞানও এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি নির্ভুলভাবে তুলে ধরা সম্ভব হচ্ছে।

