

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২ শেষ হতেই বদলে গেছে শিরোপা জয়ের সমীকরণ। জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের মতো দুই পরাশক্তির অপ্রত্যাশিত বিদায়ের পর নকআউট পর্বের লড়াই আরও জমে উঠেছে। পারফরম্যান্স, বর্তমান ফর্ম, দলীয় ভারসাম্য ও সম্ভাব্য পথ বিবেচনায় প্রকাশিত নতুন পাওয়ার র্যাঙ্কিংয়ে শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদার হিসেবে উঠে এসেছে ফ্রান্স।
টিওয়াইসি স্পোর্টসের প্রকাশিত র্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তৃতীয় স্থানে জায়গা পেয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।
শেষ ষোলোর ম্যাচে প্যারাগুয়েকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স। টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিক আক্রমণাত্মক ফুটবল, কার্যকর ফিনিশিং এবং বড় ম্যাচের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের উপস্থিতিই ফরাসিদের শিরোপার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রেখেছে।
দ্বিতীয় স্থানে থাকা আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে তাদের জয়ের মানসিকতাকে। কঠিন পরিস্থিতি থেকে ম্যাচ বের করে আনার ক্ষমতা এবং লিওনেল মেসির নেতৃত্ব দলটিকে এখনও অন্যতম ফেবারিট করে রেখেছে।
তৃতীয় স্থানে থাকা ব্রাজিলের মূল শক্তি তাদের ভারসাম্যপূর্ণ দল। মারকুইনহোস ও গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসের রক্ষণজুটি, মাঝমাঠে কাসেমিরোর অভিজ্ঞতা এবং আক্রমণে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গতিই সেলেসাওদের অন্যতম বড় অস্ত্র।
চতুর্থ স্থানে রয়েছে স্পেন। গ্রুপ পর্বে কিছুটা ছন্দহীন থাকলেও নকআউটে এসে দারুণ ফুটবল খেলছে তারা। লামিন ইয়ামালের প্রত্যাবর্তনে স্প্যানিশদের আক্রমণভাগ আরও শক্তিশালী হয়েছে।
পঞ্চম স্থানে ইংল্যান্ড। হ্যারি কেইনের নেতৃত্বে গড়া দলটি প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকেও ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য দেখিয়েছে, যা তাদের মানসিক দৃঢ়তার প্রমাণ।
ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে পর্তুগাল। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো গোল পেলেও পুরো দল এখনো নিজেদের সেরা ছন্দে ফিরতে পারেনি। ব্রুনো ফার্নান্দেজসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের ধারাবাহিকতার অভাবও র্যাঙ্কিংয়ে প্রভাব ফেলেছে।
সপ্তম স্থানে রয়েছে কলম্বিয়া। গ্রুপ পর্ব ও নকআউটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে তারা নজর কেড়েছে। তবে সামনে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে আর্জেন্টিনা থাকায় তাদের পথ কঠিন।
অষ্টম স্থানে মরক্কো। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফ্রিকার সবচেয়ে ধারাবাহিক দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে তারা। শক্তিশালী ইউরোপীয় দলগুলোর বিপক্ষেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সামর্থ্য রয়েছে তাদের।
নবম স্থানে রয়েছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। কোচ মাউরিসিও পোচেত্তিনোর অধীনে দলটি আরও সংগঠিত ও আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলছে।
দশম স্থানে নরওয়ে। আর্লিং হালান্ড, মার্টিন ওডেগার্ড ও আলেকজান্ডার সোরলথকে নিয়ে গড়া আক্রমণভাগ যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্যই বড় হুমকি।
একাদশ স্থানে বেলজিয়াম। নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের নিয়ে দলটি আবারও নিজেদের পুনর্গঠনের পথে রয়েছে।
দ্বাদশ স্থানে সুইজারল্যান্ড। ব্রিল এমবোলোর মতো কার্যকর ফরোয়ার্ড থাকলেও বিশ্বকাপ জয়ের মতো গভীরতা এখনো দলটির নেই বলে মনে করা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ স্থানে রয়েছে মেক্সিকো। সাম্প্রতিক ম্যাচে উন্নতির ইঙ্গিত দিলেও সামনে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড থাকায় তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ কঠিন।
তালিকার শেষ দল মিশর। মোহাম্মদ সালাহ ও ওমর মারমুশের নেতৃত্বে তারা শেষ ষোলোয় উঠলেও পরবর্তী ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়বে।
নকআউট পর্বে প্রতিটি ম্যাচই এখন 'করো অথবা মরো'। তাই কাগজে-কলমে ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা কিংবা ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে চমকের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইই বলে দেবে পাওয়ার র্যাঙ্কিংয়ের পূর্বাভাস কতটা বাস্তবে প্রতিফলিত হয়।

