

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে হলে লিওনেল স্কালোনির দলকে পাড়ি দিতে হবে কঠিন এক পথ।
শেষ ষোলো থেকে শুরু করে সম্ভাব্য কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল-প্রতিটি ধাপেই অপেক্ষা করছে বিশ্ব ফুটবলের শক্তিশালী প্রতিপক্ষরা।
মিয়ামিতে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা।
এখন ৪৮ দলের বিশ্বকাপে টিকে আছে মাত্র ১৬টি দল। ইতোমধ্যে জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও ক্রোয়েশিয়ার মতো পরাশক্তির বিদায়ে শিরোপার লড়াই আরও জমে উঠেছে।
শেষ ষোলোয় আগামী মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় আটলান্টায় মিসরের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।
বিশ্বকাপে এই প্রথম একে অপরের বিপক্ষে খেলবে দুই দল। তবে ২০০৮ সালে কায়রোতে একটি প্রীতি ম্যাচে সার্জিও আগুয়েরোর জোড়া গোল ও নিকোলাস বুরদিসোর এক গোলে ৩-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা।
মিসরকে হারাতে পারলে কোয়ার্টার ফাইনালে কানসাস সিটিতে বিশ্বকাপের ১০০তম ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। সেখানে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া অথবা সুইজারল্যান্ড।
পরিসংখ্যানভিত্তিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, কলম্বিয়ার মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা ৬৪ দশমিক ১ শতাংশ, আর সুইজারল্যান্ডের সম্ভাবনা ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ।
বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে দুইবার খেলেছে আর্জেন্টিনা। ১৯৬৬ সালে ২-০ এবং ২০১৪ সালের শেষ ষোলোয় অতিরিক্ত সময়ে ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল তারা।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনার জালে কোনো গোলই করতে পারেনি সুইসরা।
অন্যদিকে, বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার সঙ্গে কখনোই দেখা হয়নি আর্জেন্টিনার। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দলের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লড়াই হয়েছে। ২০২৪ কোপা আমেরিকার ফাইনালে লাউতারো মার্তিনেসের অতিরিক্ত সময়ের গোলে ১-০ ব্যবধানে শিরোপা জিতেছিল আর্জেন্টিনা।
কোয়ার্টার ফাইনাল পেরোতে পারলে সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ হতে পারে ব্রাজিল, ইংল্যান্ড, মেক্সিকো কিংবা নরওয়ে। সম্ভাবনার হিসাবে যৌথভাবে এগিয়ে আছে ব্রাজিল ও ইংল্যান্ড-দুই দলেরই সম্ভাবনা ৩৫ দশমিক ৪ শতাংশ। এরপর রয়েছে মেক্সিকো (২১ দশমিক ৬ শতাংশ) ও নরওয়ে (৭ দশমিক ৬ শতাংশ)।
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে চারবার খেলেছে আর্জেন্টিনা। একমাত্র জয়টি আসে ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয়। অন্যদিকে মেক্সিকোর বিপক্ষে বিশ্বকাপের চারটি ম্যাচেই জয় পেয়েছে আলবিসেলেস্তেরা।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের ইতিহাসও বেশ সমৃদ্ধ। নির্ধারিত সময়ে পাঁচ ম্যাচে আর্জেন্টিনার একমাত্র জয়টি এসেছিল ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে, যেখানে দিয়েগো ম্যারাডোনা করেছিলেন ইতিহাসের দুটি বিখ্যাত গোল।
১৯৯৮ সালে টাইব্রেকারেও জিতেছিল আর্জেন্টিনা। তবে ১৯৬২, ১৯৬৬ ও ২০০২ সালে জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড। এবার দুই দল মুখোমুখি হলে সেটিই হবে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লিওনেল মেসির প্রথম ম্যাচ।
ফাইনালে উঠতে পারলে সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে ধরা হচ্ছে ফ্রান্সকে। পরিসংখ্যান বলছে, ফ্রান্সের সম্ভাবনা ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে স্পেন (২৭ দশমিক ২ শতাংশ)। এছাড়া সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের তালিকায় আছে পর্তুগাল, বেলজিয়াম, মরক্কো, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ে।
ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনাল হলে সেটি হবে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে দুই দলের লড়াই। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে টাইব্রেকারে ফ্রান্সকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে, স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপে মাত্র একবার খেলেছে আর্জেন্টিনা, ১৯৬৬ সালের সেই ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল তারা।
ইনস্টিটিউট অব ক্যালকুলেশন (কনিসেট-ইউবিএ) এবং লা নাসিওন-এর পরিসংখ্যানভিত্তিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, সবচেয়ে সম্ভাব্য ফাইনাল হতে পারে আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স, যার সম্ভাবনা ৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ। দ্বিতীয় সম্ভাব্য ফাইনাল আর্জেন্টিনা-স্পেন (৬ দশমিক ৯০ শতাংশ)। এছাড়া ফ্রান্স-ইংল্যান্ড, ফ্রান্স-ব্রাজিল, স্পেন-ইংল্যান্ড এবং স্পেন-ব্রাজিলও সম্ভাব্য ফাইনালের তালিকায় রয়েছে।
টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্ন এখনও বেঁচে আছে আর্জেন্টিনার। তবে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে হলে বিশ্ব ফুটবলের সেরা দলগুলোর বিপক্ষে একের পর এক কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে লিওনেল মেসিদের।


