

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


একসময় অনেকেই ধারণা করেছিলেন, কাতার বিশ্বকাপই হয়তো হবে লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর শেষ বিশ্বমঞ্চ। বয়স, শারীরিক সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলের দীর্ঘ পথচলার কারণে সেই ধারণা অমূলকও ছিল না।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুই মহাতারকার গল্প ভিন্ন মোড় নিয়েছে। ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা, নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার অদম্য ইচ্ছা এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা তাদের আবারও ফিরিয়ে এনেছে বিশ্বকাপের আলোয়।
চলমান বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠে নেমে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার কীর্তি গড়েছেন লিওনেল মেসি। সেই তালিকায় এবার যোগ দিলেন তার দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও। পর্তুগালের জার্সিতে মাঠে নেমে তিনিও ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অনন্য অর্জনের অংশ হয়ে গেলেন।
ফুটবল ইতিহাসে বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে এত দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে খেলে যাওয়া খুব কম খেলোয়াড়ের পক্ষেই সম্ভব হয়েছে। মেসি ও রোনালদো সেই বিরল কৃতিত্বের মালিক। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের ছাপ রেখে যাওয়া এই দুই তারকা আবারও বিশ্বমঞ্চে আলোচনার কেন্দ্রে।
আর্জেন্টিনার হয়ে এখন পর্যন্ত ২০০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন মেসি। জাতীয় দলের জার্সিতে তার গোলসংখ্যা ১২০। অন্যদিকে রোনালদো আন্তর্জাতিক ফুটবলে আরও একটি অসাধারণ মাইলফলকের মালিক।
ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল তার জাতীয় দলের হয়ে ২২৯তম উপস্থিতি। পর্তুগালের হয়ে ইতোমধ্যে ১৪৩ গোল করে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনও ধরে রেখেছেন তিনি।
ছয়টি বিশ্বকাপে নাম লেখানোর কৃতিত্ব অবশ্য আরও একজনের আছে। মেক্সিকোর অভিজ্ঞ গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়া ছয়টি বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন। তবে ২০০৬ ও ২০১০ আসরে তিনি মাঠে নামার সুযোগ পাননি। ফলে বিশ্বকাপে প্রকৃত অংশগ্রহণের বিচারে মেসি ও রোনালদোর অর্জন আরও বেশি আলোচিত হচ্ছে।
হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে পর্তুগালের প্রতিপক্ষ ছিল আফ্রিকার দেশ ডিআর কঙ্গো। দীর্ঘ বিরতির পর বিশ্বকাপে ফেরা দলটি ১৯৭৪ সালের পর প্রথমবারের মতো এই টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে। আফ্রিকান দলগুলোর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও বেশ আলোচনায়।
মরক্কো, আইভরি কোস্ট, মিশর এবং কেপ ভার্দের মতো দলগুলো ইতোমধ্যেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। ফলে পর্তুগালের বিপক্ষে ডিআর কঙ্গোও চমক দেখাতে পারে বলে অনেকের ধারণা।
এই ম্যাচটি দুই দলের জন্যই ছিল বিশেষ। কারণ আন্তর্জাতিক ফুটবলে এর আগে কখনো পর্তুগাল ও ডিআর কঙ্গো মুখোমুখি হয়নি। বিশ্বকাপের মঞ্চেই প্রথমবারের মতো একে অপরের বিপক্ষে খেলতে নামে তারা।
এদিকে পর্তুগাল দলের কোচ রবার্তো মার্তিনেজ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান চুক্তির মেয়াদ এই বিশ্বকাপ পর্যন্তই। টুর্নামেন্ট শেষে জাতীয় দলের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে তার।
ম্যাচে পর্তুগাল ৪-২-৩-১ ফরমেশনে খেলতে নামে। আক্রমণভাগের নেতৃত্বে ছিলেন রোনালদো। অন্যদিকে ডিআর কঙ্গো রক্ষণাত্মক ৫-৩-২ ছকে মাঠে নেমে ইউরোপিয়ান পরাশক্তিকে চাপে রাখার কৌশল নেয়।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে মেসি ও রোনালদোর নাম বহুদিন ধরেই স্বর্ণাক্ষরে লেখা। এবার ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে তারা আরও একবার প্রমাণ করলেন, বয়স বাড়লেও শ্রেষ্ঠত্বের ক্ষুধা এখনো ফুরিয়ে যায়নি। ফুটবলপ্রেমীদের জন্যও এটি এক বিশেষ মুহূর্ত কারণ একই প্রজন্মে দুই কিংবদন্তিকে এমন উচ্চতায় পৌঁছাতে দেখা সত্যিই বিরল ঘটনা।
