

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দুই দিনের সফরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার (২০ জুন) পশ্চিমবঙ্গ দিবস এবং রোববার (২১ জুন) আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে তার এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
শনিবার হুগলির তারকেশ্বরে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় বক্তব্য দেন তিনি। বক্তব্যে তিনি অবিভক্ত বাংলার ইতিহাস, বিশেষ করে ১৯৪৬ সালের ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ ও নোয়াখালীর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘পরাধীনতার সময়ে বাংলা অসংখ্য কষ্ট ও ত্যাগের সাক্ষী হয়েছে। ১৯৪৬ সালে কলকাতা ও নোয়াখালীর সহিংসতায় বহু নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, রক্তপাত ও বিভাজনের কঠিন সময় পার করেও বাংলার মানুষ তাদের আত্মপরিচয় ও ঐতিহ্য অটুট রেখেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পুরো বাংলাকে ভারতের থেকে আলাদা করার একটি চক্রান্ত করা হচ্ছিল। তখন আলাদা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য তৈরি করে সেই চক্রান্তকে সফল হতে দেওয়া হয়নি। হাজার বছরের পুরোনো সভ্যতা, সংস্কৃতি এবং এখানকার মূল আস্থা ও পরম্পরা অনেক আন্দোলনের পর রক্ষা পেয়েছে।’
ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ নিয়ে নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া নিয়ে আগের রাজ্য সরকার জমি হস্তান্তরের কাজ আটকে রেখেছিল। তবে নতুন সরকার গঠন হতেই জমি হস্তান্তরের কাজ শুরু হয়ে গেছে।’
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করে নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘যারা আপনাদের শোষণ করেছে, তারা নিজেরাই এখন এসে আপনাদের কাছ থেকে লুটে নেওয়া টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হচ্ছে। বড় বড় দুর্নীতিগ্রস্তদের জেলে পাঠানো হচ্ছে। যারা সিন্ডিকেট রাজ চালাত, তারা এখন জনগণের কাছে ক্ষমা চাইছে। অবৈধভাবে চাঁদাবাজি করা গুন্ডারা ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।’
রোববার কলকাতার ঐতিহ্যবাহী রেড রোডে ‘যোগ দিবস’-এর অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন নরেন্দ্র মোদী। এ নিয়ে এরই মধ্যে রাজ্যজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীদের মতে, যানজটের অজুহাত দেখিয়ে কলকাতার রেড রোডে মুসলিম সম্প্রদায়ের ঈদের নামাজের জন্য কয়েক ঘণ্টার অনুমতি দেয়নি বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার। অথচ সেই একই রেড রোড আটকে এবার যোগ দিবস পালন করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
