

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইসলামে বিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও ধর্মীয় চুক্তি। বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন, এসএমএস, মেসেঞ্জার ও অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে যোগাযোগের প্রসার ঘটায় অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—শুধু মেসেজে ‘কবুল’ লিখে পাঠালেই কি বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যায়?
ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য শুধু ‘কবুল’ বলা বা লেখা যথেষ্ট নয়। বিয়ের জন্য প্রস্তাব (ইজাব) ও গ্রহণ (কবুল) ছাড়াও নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে সাক্ষীর উপস্থিতি, বর-কনের সম্মতি এবং শরিয়ত নির্ধারিত অন্যান্য বিধান।
ফকিহদের ভাষ্যমতে, লিখিত বার্তার মাধ্যমে বিয়ের প্রস্তাব ও গ্রহণের বিষয়টি বিশেষ পরিস্থিতিতে বিবেচিত হতে পারে। তবে তা বৈধ হওয়ার জন্য সাক্ষীদের সামনে বার্তা পাঠ ও গ্রহণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হতে হবে। কেবল ব্যক্তিগত চ্যাটে বা মেসেজে ‘আমি কবুল করলাম’ লিখে পাঠালে সাধারণভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে গণ্য করা হয় না।
আলেমরা বলেন, অনলাইনে বা মেসেজে সম্পাদিত বিয়ের ক্ষেত্রেও শরিয়তের সব শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে জটিলতা ও বিরোধ দেখা দিতে পারে।
তাই বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিভ্রান্তি এড়াতে অভিজ্ঞ আলেম বা ইসলামি আইনজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে শরিয়তসম্মত পদ্ধতিতে বিয়ে সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইসলামি শরিয়াহ ও ফিকাহ শাস্ত্রের আলোকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে।
শরিয়াহ বিশারদদের মতে, ফেসবুক মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপের মতো লিখিত মাধ্যমে একপক্ষ বিয়ের প্রস্তাব দিলে এবং অপরপক্ষ তিনবার ‘কবুল’ লিখে তা গ্রহণ করলেও বিয়ে সম্পন্ন হয় না। বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য অন্যতম প্রধান শর্ত হলো পাত্র ও পাত্রী অথবা পাত্রীর অনুমোদিত প্রতিনিধিকে একই বৈঠকে বা মজলিসে উপস্থিত থাকতে হবে। যেহেতু ডিজিটাল বার্তার মাধ্যমে এই সরাসরি উপস্থিতির শর্তটি পূরণ হয় না, তাই এভাবে ইজাব-কবুল করলেও বিয়ে শরিয়াহ অনুযায়ী বৈধ হবে না।
বিয়ের বৈধতার জন্য সাক্ষী থাকা একটি অপরিহার্য শর্ত। শরিয়াহর বিধান অনুযায়ী, বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য ইজাব-কবুলের সময় অন্তত দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষ অথবা একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও দুইজন নারীর সরাসরি উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। এমনকি পাত্র-পাত্রী নিজেরা সরাসরি দেখা করে একে অপরকে বিয়ের প্রস্তাব ও গ্রহণ করলেও সাক্ষী উপস্থিত না থাকলে সেই বিয়ে বৈধ হবে না।
এ বিষয়ে সহিহ ইবনে হিব্বানের একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘অভিভাবক ও দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীর উপস্থিতি ছাড়া বিয়ে হয় না।’
তবে বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য নির্দিষ্টভাবে কাউকে সাক্ষী হিসেবে নিয়োগ করা জরুরি নয়। যদি জনসমক্ষে বা অনেকের উপস্থিতিতে বিয়ের আকদ সম্পন্ন হয় এবং উপস্থিত ব্যক্তিরা ইজাব ও কবুল শুনতে পান, তবে তারাই সাক্ষীর মর্যাদা পাবেন। বিশেষ করে মসজিদে যখন বহু মানুষের উপস্থিতিতে বিয়ে পড়ানো হয়, তখন উপস্থিত সবাই বিয়ের সাক্ষী হিসেবে গণ্য হন।
অর্থাৎ, ডিজিটাল মাধ্যমে বার্তা পাঠিয়ে ‘কবুল’ বলা কেবল একটি সম্মতি বা আলোচনার অংশ হতে পারে, কিন্তু এটি বিয়ের পূর্ণাঙ্গ ও বৈধ ধর্মীয় প্রক্রিয়া হিসেবে গণ্য হবে না। বিয়ে বৈধ হতে হলে সাক্ষী এবং একই মজলিসে অবস্থানের বিধান অবশ্যই পালন করতে হবে।
