শনিবার
২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলবো’— সালিশ বৈঠকে এমপি হানজালা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২০ জুন ২০২৬, ০৬:০০ পিএম
expand
‘চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলবো’— সালিশ বৈঠকে এমপি হানজালা

সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া প্রায় এক মিনিটের ভিডিওতে মাদারীপুর-১ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা এমপিকে বলতে শোনা যায়, ‘কথা বললেন কেন? আপনারা এখানে কাউন্টার দিলেন কেন?’ একপর্যায়ে তিনি টেবিল চাপড়ে বলেন, ‘এই মিয়া চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলবো। চুপ করেন। আমি আসছি বিচার করার জন্য। কাউন্টার দিলে আমি দিবো।’

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় একটি সালিশ বৈঠকে তার উত্তেজিত আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তাকে টেবিল চাপড়ে উপস্থিত এক বিএনপি কর্মীসহ কয়েকজনকে ধমক দিতে দেখা যায়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি এক থেকে দেড় মাস আগের। শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের চর বাচামারা মৌলভীকান্দি গ্রামে একটি মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে বিএনপি কর্মী তারামিয়াসহ উভয় পক্ষের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, সালিশ চলাকালে এক পক্ষকে এক লাখ টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হলে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আলোচনা ও তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সংসদ সদস্য হানজালা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।

সালিশে উপস্থিত বিএনপি কর্মী তারা মিয়া বলেন, ‘বিচার চলাকালে আমার সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। আমার মনে হয়েছে, এমপি সাহেব অন্যদের কথা শোনার সুযোগ না দিয়ে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত দিতে চাচ্ছিলেন। আমি এর প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে এক লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়। যাকে জরিমানা করা হয়েছে, তিনি একজন দরিদ্র মানুষ। তার পক্ষে এত টাকা দেওয়া কঠিন।’

তারা মিয়া আরও বলেন, ‘যেখানে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মতামত আসতেই পারে। একজন বিচারকের দায়িত্ব হলো ধৈর্যের সঙ্গে সেসব কথা শোনা। অন্যথায় সেটি জনসম্মুখের সালিশ না হয়ে একতরফা সিদ্ধান্তে পরিণত হয়।’

স্থানীয়রা জানান, বৈঠকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এমপি হানজালা মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় উপস্থিত একজন মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। পরে ভিডিও ধারণ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হলে রেকর্ডিংটি সেখানেই শেষ হয়।

ভিডিওটি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা বলেন, ‘ঘটনাটি এক থেকে দেড় মাস আগের। এলাকার মানুষ আমাকে ছাড়া সালিশে বসতে চায়নি, তাই আমি সেখানে গিয়েছিলাম। সালিশের সময় উভয় পক্ষ তর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং বারবার কথা কাটাকাটি করছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই আমি ধমক দিয়েছি। তবে শেষ পর্যন্ত বিচার কাজ সুন্দরভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, মাওলানা মামুনুল হকের দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে ১১ দলের প্রার্থী হিসেবে অল্প ভোটের ব্যবধানে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হন পীরজাদা হানজালা। এর আগেও তিনি ‘খোঁচাখুঁচি করলে বিএনপি দেশে থাকতে পারবে না’ বক্তব্য দিয়ে ব্যাপক সমালোচিত হন। পরে অবশ্য তিনি এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Netherlands VS Sweden
Scheduled
20 Jun, 11:00 PM
VS
World Cup