

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আলোচিত মডেল ও রাজনীতিবিদ মেঘনা আলমের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস ঘিরে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে। স্ট্যাটাসে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।
মেঘনা আলমের দাবি, জীবনে কখনো ক্ষমতাসীন কাউকে তেল মারেননি বা কাউকে খুশি করতে নিজের অবস্থান বদলাননি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি তার দাবি তুলে ধরেন।
স্ট্যাটাসে মেঘনা আলম লিখেছেন, ‘বিগত ১৭ বছরের একনায়কতন্ত্রের ইতিহাসে কোনো দিন শেখ হাসিনা বা ক্ষমতাসীন কাউকেই তেল মারিনি। এখন কেন গণতন্ত্রের দেশে কাউকে তেল দিতে যাব?’
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘যখন অনেকে বলছিলেন ইউনূসকে এড়িয়ে চলতে, তখনও তার ফেসবুকের কভার ছবিতে অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে তার ছবি ছিল।’ এমনকি তৎকালীন সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী তাকে ‘ম্যাডাম’ বলে সম্বোধন করলেও তাদের সামনেই তার ফোনের ওয়ালপেপারে অধ্যাপক ইউনূসের ছবি ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
স্ট্যাটাসে মেঘনা আলম আরও দাবি করেন, ২০১৫ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশের রাষ্ট্রদূতেরা তাকে সম্মানের সঙ্গে আচরণ করে আসছেন। একপর্যায়ে একজন ক্ষমতাধর ব্যক্তির সঙ্গে তার বিয়ের সম্পর্ক হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে পরে নিজেই সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসেন বলে জানান।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে মেঘনা আলম বলেন, তিনি রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ ছিলেন এবং শেখ হাসিনার সরকারের সময়ও বিএনপির ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এখনো অনেক প্রভাবশালী রাষ্ট্রদূত তার নিয়মিত খোঁজখবর রাখেন বলেও দাবি করেন তিনি।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মেঘনা আলম। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দলকে সমর্থন করা কিংবা তাদের সঙ্গে কাজ করতে চাওয়া এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাজ ও কথায় মুগ্ধ হওয়া তার স্বাভাবিক রাজনৈতিক অবস্থান। এর মধ্যে কোনো ধরনের তোষামোদ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
মেঘনা আলম লিখেছেন, ‘এমন খারাপ দিন আসেনি আমার যে কাউকে ফ্ল্যাটার করতে হবে। আমি কাউকে ভালো বললে মন থেকেই বলি।’
জীবনের কঠিন সময়ের কথাও স্ট্যাটাসে তুলে ধরেছেন তিনি। মেঘনা বলেন, ‘ওই সময় অপপ্রচার ও সামাজিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন। তবে অচেনা অসংখ্য মানুষের সহযোগিতা ও ভালোবাসায় তিনি আবার ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছেন।’
স্ট্যাটাসের শেষাংশে মেঘনা আলম বলেন, ‘দুনিয়াতে কিছু ভালো মানুষ খুঁজছি। একসঙ্গে দেশের স্বার্থে, মানবতার স্বার্থে এগিয়ে যেতে চাই।’
এদিকে সম্প্রতি দেওয়া তার আরেক স্ট্যাটাসে ‘সারাজীবন ছিলাম ভার্জিন বলে মন্তব্য করে’ নেট দুনিয়ায় তুমুল আলোচিত ও সমালোচিত হন মেঘনা আলম।
ওই স্ট্যাটাসে মেঘনা আলম লেখেন, ‘ভাই আমি সারাজীবন ছিলাম ভার্জিন, মদ সিগারেট কিছুর অভ্যাস নেই, টাকা পয়সার বিষয়েও ভয়ঙ্কর দানশীল, যতটুকু পৈতৃক সম্পদ আছে তাই ব্যবহার করিনা। হুমকি দিয়ে লাভ নেই কোনও, আমি একটু খারাপ খারাপের সাথে!’
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে ‘মিস আর্থ বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন মেঘনা আলম। পাশাপাশি তিনি ‘মিস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানেরও চেয়ারম্যান। তবে তিনি আলোচনায় আসেন ঢাকায় নিযুক্ত সাবেক সৌদি রাষ্ট্রদূত ঈসা ইউসুফ ঈসা আলদুহাইলানের সঙ্গে ‘প্রেমের সম্পর্ক’কে ঘিরে। মেঘনা আলম সেই রাষ্ট্রদূতকে ‘স্বামী’ বলে দাবি করেন।


