

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


‘নাইন ইয়ারস গন, থিংক টেন মিনিটস ফর রোহিঙ্গা’ (নয় বছর পার হয়েছে, রোহিঙ্গাদের জন্য অন্তত ১০ মিনিট ভাবুন) - এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নবম রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবসে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিজ দেশে ফেরার দাবিতে সমাবেশ করেছেন রোহিঙ্গারা।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে উখিয়ার ক্যাম্প-৪ এক্সটেনশনের ফুটবল মাঠে ‘ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা’-এর উদ্যোগে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গারা অংশ নেন। সমাবেশে ২০১৭ সালের গণহত্যায় নিহত স্বজনদের স্মরণ, ন্যায়বিচার, জবাবদিহি এবং মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ২০১৭ সালের নৃশংসতার নয় বছর পরও স্বজন ও ভিটেমাটি হারানোর ক্ষত রোহিঙ্গাদের মনে গভীরভাবে রয়ে গেছে। দীর্ঘ শরণার্থী জীবনে তাদের একটাই স্বপ্ন- মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিজেদের জন্মভূমিতে ফিরে যাওয়া।
রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী মোহাম্মদ রফিক বলেন, ‘আমরা বিশ্ববাসীর কাছে মাত্র ১০ মিনিট সময় চাই। নয়টি বছর পার হয়ে গেছে। এ দেশ আমাদের নয়, আমরা মাতৃভূমিতে ফিরতে চাই। আরাকান আমাদের, আমরা আরাকানের- এর চেয়ে বড় কোনো সত্য নেই।’
ইউসিআরের প্রেসিডেনশিয়াল প্যানেল সদস্য মোহাম্মদ সৈয়দ উল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদেশ মানবিক আশ্রয় দেওয়ায় আমরা কৃতজ্ঞ। তবে আমরা নিজ দেশে ফিরে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চাই। শুধু সীমান্ত পার করে দেওয়াই প্রত্যাবাসন নয়; রাখাইনে নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব, চলাচলের স্বাধীনতা ও জীবিকার নিশ্চয়তা দিতে হবে।’
সমাবেশে বার্মিজ ভাষায় বক্তব্য দেন ইউসিআর নেতা মাস্টার শোয়েব। তিনি প্রত্যাবাসনের আগে রাখাইনে নিরাপদ পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন।
তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এমনভাবে প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে রোহিঙ্গারা ভয় ও অনিশ্চয়তা ছাড়াই নিজেদের দেশে ফিরতে পারেন।’
সমাবেশের একপর্যায়ে ১০ মিনিট ধরে রোহিঙ্গা ভাষায় বিভিন্ন স্লোগান দেন অংশগ্রহণকারীরা। ‘শেষ হতা এক্কান, ফিরতে চাই আরকান’- স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে সমাবেশস্থল।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয় জানায়, প্রতিবছরের মতো এবারও রোহিঙ্গাদের এই সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সমাবেশকে ঘিরে ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।


