

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিপদাপদ জীবনেরই অনুষঙ্গ। সুখ-দুঃখ মিলিয়েই মানুষের জীবন। জীবনে সুখ আসুক কিংবা দুঃখ—সব অবস্থায় একজন মুসলিমের কর্তব্য হলো আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা এবং তাঁকে বেশি বেশি স্মরণ করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) কোনো কঠিন সমস্যায় পড়লে আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন।
বিপদ-আপদ ও সংকট থেকে মুক্তির জন্য পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বিভিন্ন দোয়া বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আমাকেই স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করব। আর তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও এবং অকৃতজ্ঞ হয়ো না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫২)
বিপদে পড়লে আল্লাহর কাছে দোয়া, ইসতিগফার ও তওবা করা উচিত। এমন কয়েকটি দোয়া হলো—
ইসতিগফার পড়া
বিপদে পড়লে বেশি বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া ও ইসতিগফার করা উচিত। ইসতিগফারের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর কাছে নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং তাঁর রহমত কামনা করে।
ইসতিগফার হিসেবে পড়া যায়—
আস্তাগফিরুল্লাহ
অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি
অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর কাছেই তওবা করছি।
রব্বিগফিরলি ওয়া তুব আলাইয়া, ইন্নাকা আনতাত তাওয়াবুর রহিম।
অর্থ: হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তওবা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।
দোয়া ইউনুস
বিপদ ও সংকটের সময় দোয়া ইউনুস পড়া যায়। হজরত ইউনুস (আ.) বিপদের সময় এই দোয়া করেছিলেন। আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করে তাঁকে সংকট থেকে মুক্তি দেন।
দোয়াটি হলো—
লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জালিমিন।
অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনি পবিত্র ও মহান। নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৫০৫)
‘ইয়া জাল-জালালি ওয়াল-ইকরাম’ পড়া
আল্লাহর মহান নাম ‘ইয়া যাল-জালালি ওয়াল-ইকরাম’ ধরে তাঁর কাছে দোয়া করা যায়। এর অর্থ—হে মহিমা ও সম্মানের অধিকারী। বিপদে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে তাঁর সাহায্য ও রহমত কামনা করা উচিত।
এ ছাড়া তাহাজ্জুদসহ নফল নামাজ আদায় করে আল্লাহর কাছে দোয়া করা যেতে পারে।
ক্ষতি থেকে বাঁচার দোয়া
ক্ষতি ও অনিষ্ট থেকে বাঁচতে সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার এই দোয়া পড়ার কথা হাদিসে এসেছে।
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মা‘আ ইসমিহি শাইউন ফিল আরদি, ওয়া লা ফিস সামায়ি, ওয়া হুয়াস সামিউল আলিম।
অর্থ: আল্লাহর নামে—যাঁর নামের সঙ্গে থাকলে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। (সুনানে তিরমিজি)
বিপদে পড়ে হতাশ না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা করা, নামাজ আদায় করা, ইসতিগফার ও দোয়া করা এবং ধৈর্য ধারণ করা একজন মুমিনের কর্তব্য।

