

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নামাজ ইসলামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ফরজ বিধান, যা যেকোনো পরিস্থিতিতে সময়মতো আদায় করা বাধ্যতামূলক। নামাজের মতো পবিত্র ইবাদতের সময় পোশাকে শালীনতা ও সৌন্দর্য বজায় রাখার ওপর ইসলাম বিশেষভাবে তাগিদ দিয়েছে। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন:
يَا بَنِي آدَمَ خُذُواْ زِينَتَكُمْ عِندَ كُلِّ مَسْجِدٍ “হে বনি-আদম! তোমরা প্রত্যেক নামাজের সময় সাজসজ্জা পরিধান করে নাও।” (সুরা আরাফ: ৩১)
এই বিষয়ের আলোকে বিভিন্ন খেলার জার্সি পরে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে ইসলামি আইনবিদ ও বিশিষ্ট ফুকাহায়ে কেরামদের সিদ্ধান্তগুলো হলো:
১. জার্সি পরে নামাজ আদায়
বিভিন্ন খেলার জার্সি গায়ে জড়িয়ে নামাজ আদায় করা অনুচিত হলেও, এতে নামাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে।
২. জীবজন্তুর ছবি বা লোগো থাকলে
ইসলামি শরিয়তের অকাট্য বিধান অনুযায়ী, যেকোনো জীবন্ত প্রাণীর ছবিযুক্ত পোশাক ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ (হারাম)। জার্সির ক্ষেত্রে নিয়মগুলো হলো:
ছবি স্পষ্ট হলে: জার্সির গায়ে থাকা কোনো প্রাণীর ছবি যদি পুরোপুরি স্পষ্ট ও দৃশ্যমান হয়, তবে তা পরিধান করে নামাজ আদায় করা অনুচিত। এটি নামাজের পবিত্রতা নষ্ট করে এবং সেই নামাজ মাকরুহ বা ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে গণ্য হবে।
ছবি অস্পষ্ট হলে: জার্সিতে থাকা ছবি বা লোগো যদি কোনো কারণে একদম অস্পষ্ট কিংবা চোখের আড়ালে থাকে, তবে সেই পোশাক পরে নামাজ আদায় করলে তা মাকরুহ বা অপছন্দনীয় হবে না।
৩. প্রাণহীন বস্তুর ছবি বা নকশা
মানুষের তৈরি পোশাক বা জার্সিতে যদি কোনো প্রাণহীন বস্তু- যেমন গাছপালা, পাহাড়, ঝরনা বা নদীর ছবি থাকে, তবে তা ধর্মীয়ভাবে সম্পূর্ণ বৈধ এবং তা পরে ইবাদত করায় কোনো বাধা নেই। (আল-বাহরুর রায়েক: ২/২৯, মেরকাতুল মাফাতিহ: ৪৪৮৯)
৪. অনৈসলামিক সংস্কৃতির বর্জন
ইসলামি আইনবিদেরা আরও উল্লেখ করেছেন যে, প্রচলিত অনেক খেলাই পরোক্ষভাবে জুয়া, বিপুল অর্থ ও সময়ের অপচয় এবং অনৈসলামিক সংস্কৃতির সাথে যুক্ত থাকে। তাই এসব বিষয় বর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আবশ্যক।