সোমবার
১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফিতরা কখন এবং কাকে দিতে হয়?

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

ফিতরা বা সদকাতুল ফিতর হলো রমজান মাসের একটি বিশেষ ফরজ সদকা, যা রোজার শেষে ঈদের আগে আদায় করতে হয়। এটি প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর ওয়াজিব, যাতে দরিদ্র মানুষও ঈদের আনন্দে শরিক হতে পারে

এবং রোজার সময় হওয়া ভুলত্রুটি থেকে আত্মশুদ্ধি অর্জিত হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) ফিতরাকে রোজার পরিশুদ্ধি ও গরিবদের খাদ্যের ব্যবস্থা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। ফিতরা আদায়ের সময়

ফিতরা দেওয়ার উত্তম সময় হলো ঈদের নামাজের আগে। ঈদের দিনের ফজরের পর থেকে ঈদের নামাজের আগ পর্যন্ত সময়কে সর্বোত্তম ধরা হয়।

আরও পড়ুনঃ জাকাত কাদের ওপর ফরজ এবং হিসাব করার সহজ নিয়ম।

রাসূলুল্লাহ (সা.) ঈদের নামাজের আগে ফিতরা আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে দরিদ্র মানুষ ঈদের দিনে প্রয়োজন মেটাতে পারে।

যদি কেউ ঈদের নামাজের পরে ফিতরা দেয়, তাহলে তা সদকা হিসেবে গণ্য হবে, কিন্তু ফিতরার ওয়াজিব আদায়ের সওয়াব পূর্ণভাবে পাওয়া যাবে না।

তবে প্রয়োজন হলে রমজানের শেষ দিকে, বিশেষ করে চাঁদ দেখার পর বা শেষ দুই-তিন দিনের মধ্যেও ফিতরা দেওয়া জায়েজ। অনেক আলেম বলেন,

ঈদের আগেই ফিতরা দেওয়া উত্তম, যাতে গরিব মানুষ আগে থেকেই ঈদের প্রস্তুতি নিতে পারে। ইচ্ছাকৃতভাবে ঈদের পর বিলম্ব করা উচিত নয়। ফিতরা কার ওপর ওয়াজিব

ফিতরা ওয়াজিব হয় সেই মুসলমানের ওপর, যে ঈদের দিন ও রাতের প্রয়োজনীয় খাবার এবং মৌলিক চাহিদার অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক। নিসাবের পরিমাণ সাধারণত জাকাতের নিসাবের সমান ধরা হয়,

অর্থাৎ সাড়ে ৫২ তোলা রূপা বা তার সমমূল্যের সম্পদ থাকলে ফিতরা দিতে হবে। নারী-পুরুষ, ছোট-বড় সবাই এই বিধানের অন্তর্ভুক্ত, যদি তারা সামর্থ্যবান হয়।

একজন ব্যক্তি নিজের ফিতরার পাশাপাশি তার অধীনস্থদের ফিতরা আদায় করবে, যেমন ছোট সন্তানদের ফিতরা বাবাকে দিতে হবে। স্ত্রী যদি স্বচ্ছল না হয়,

তবে স্বামী তার ফিতরাও আদায় করতে পারে। তবে প্রাপ্তবয়স্ক ও স্বচ্ছল সন্তান নিজের ফিতরা নিজেই আদায় করবে।

ফিতরা কাকে দিতে হয়

ফিতরা দেওয়া যাবে সেই সব মানুষকে, যারা জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত। অর্থাৎ ফকির, মিসকিন, অভাবগ্রস্ত, ঋণগ্রস্ত এবং যারা দৈনন্দিন প্রয়োজন পূরণ করতে অক্ষম।

কুরআনে জাকাতের যেসব খাত নির্ধারণ করা হয়েছে, ফিতরাও মূলত সেসব খাতেই দেওয়া যায়।

আরও পড়ুনঃ নিজের আপন ভাই-বোনকে কি জাকাত দেওয়া যাবে?

ফিতরা দেওয়া যাবে না মা-বাবা, দাদা-দাদি, নানা-নানি, সন্তান ও নাতি-নাতনিকে। কারণ তাদের ভরণপোষণ দেওয়া নিজের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

একইভাবে স্বামী স্ত্রীকে এবং স্ত্রী স্বামীকে ফিতরা দিতে পারবে না। ধনী ব্যক্তিকেও ফিতরা দেওয়া যাবে না, কারণ ফিতরার উদ্দেশ্য হলো দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন পূরণ করা।

ফিতরার পরিমাণ কত ফিতরার পরিমাণ নির্ধারিত হয় খাদ্যদ্রব্যের ভিত্তিতে। রাসূলুল্লাহ (সা.) এক সা’ খেজুর, যব বা কিশমিশ ফিতরা হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন। বর্তমানে অনেক দেশে গম বা চালের বাজারদর অনুযায়ী ফিতরার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়।

সাধারণভাবে এক ব্যক্তির ফিতরা হিসেবে নির্দিষ্ট পরিমাণ চাল বা তার সমমূল্যের টাকা দেওয়া হয়। স্থানীয় ইসলামিক কর্তৃপক্ষ বা আলেমদের ঘোষিত পরিমাণ অনুযায়ী ফিতরা আদায় করা উত্তম।

ফিতরা দেওয়ার উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব ফিতরার মূল উদ্দেশ্য হলো রোজাদারের রোজাকে শুদ্ধ করা এবং দরিদ্র মানুষকে ঈদের আনন্দে শরিক করা। হাদিসে এসেছে,

ফিতরা রোজার সময় হওয়া অপ্রয়োজনীয় কথা ও ভুলত্রুটির কাফফারা এবং গরিবের জন্য খাদ্যের ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে সমাজে সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ তৈরি হয়।

আরও পড়ুনঃ স্বর্ণ বা গয়নার জাকাত কীভাবে হিসাব করবেন?

ফিতরা আদায়ের সময় নিয়ত করা জরুরি। মনে মনে নিয়ত করতে হবে যে এটি সদকাতুল ফিতর। কাউকে দেওয়ার সময় মুখে বলা আবশ্যক নয়, তবে অন্তরে নিয়ত থাকা শর্ত। সম্মানের সঙ্গে গোপনে দেওয়া উত্তম, যাতে প্রাপক লজ্জিত না হয়।

ফিতরা ঈদের আগে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদায় করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য এটি ওয়াজিব এবং দরিদ্র মানুষের জন্য বড় সহায়তা। সঠিক সময়ে সঠিক ব্যক্তিকে ফিতরা দিলে একদিকে রোজার পূর্ণতা আসে,

অন্যদিকে সমাজের অসহায় মানুষ ঈদের আনন্দে অংশ নিতে পারে। তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত ফিতরার সময়, পরিমাণ ও প্রাপক সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান রেখে দায়িত্বের সাথে তা আদায় করা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Belgium VS Egypt
Scheduled
16 Jun, 01:00 AM
VS
World Cup