

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইসলামে জাকাত হলো পাঁচটি স্তম্ভের একটি অপরিহার্য অংশ। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন,
“যারা তাদের ধন-সম্পদ থেকে জাকাত দেয়, তারা মানুষ ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে।” (সূরা বাকারাহ: ২৭৩)।
জাকাত হলো ধনী মুসলমানদের জন্য একটি সামাজিক ও আধ্যাত্মিক দায়িত্ব, যা দরিদ্র ও অসহায়দের জন্য আল্লাহর রহমত ও বরকত বহন করে।
আরও পড়ুনঃ রোজার মাসে কোরআন খতম দেওয়ার সহজ রুটিন।
১. জাকাত কাদের ওপর ফরজ জাকাত ফরজ হয় শুধুমাত্র সেই ব্যক্তির ওপর, যিনি: মুসলিম হতে হবে। জাকাত কেবল মুসলমানদের জন্য ফরজ।
নিষ্পাপ সম্পদ থাকতে হবে। অর্থাৎ, সেই সম্পদ যা ইসলামিক পথে অর্জিত।
নিজের মৌলিক প্রয়োজনের বেশি সম্পদ থাকতে হবে। এখানে মৌলিক প্রয়োজন বলতে খাদ্য, পোশাক, আবাস, চিকিৎসা ও অন্যান্য দৈনন্দিন প্রয়োজন বোঝানো হয়েছে।
নিসাব সম্পদে পৌঁছানো। নিষাব হলো নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ যা ছাড়িয়ে গেলে জাকাত ফরজ হয়। বর্তমানে ৮৫ গ্রাম স্বর্ণ বা তার সমমূল্যের ধন বা নগদ সম্পদ নিষাবের মান।
২. জাকাতের হার ও ধরনের উপর ভিত্তি করে হিসাব জাকাতের হিসাব নির্ভর করে সম্পদের ধরন ও পরিমাণের ওপর। প্রধান কিছু জাকাতের ধরন হলো:
নগদ ও ব্যাংক ব্যালেন্স: ২.৫% বা ১/৪০ অংশ।
স্বর্ণ ও রূপা: ২.৫%।
আরও পড়ুনঃ রোজা অবস্থায় মিথ্যা কথা বা গীবত করলে কি রোজা কবুল হয়?
বাণিজ্যিক পণ্য বা ব্যবসার স্টক: ২.৫%।
পশু, কৃষিজমি ও ফলন: আলাদা হার নির্ধারিত। যেমন গবাদি পশুর জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যা ও হার রয়েছে।
৩. হিসাব করার সহজ নিয়ম জাকাত হিসাব করার জন্য নিচের সহজ ধাপগুলো অনুসরণ করা যেতে পারে: সম্পদ তালিকা করা:
প্রথমে নিজের সব সম্পদ তালিকাভুক্ত করুন—নগদ, ব্যাংক ব্যালেন্স, স্বর্ণ, রূপা, ব্যবসার মালপত্র ইত্যাদি।
মৌলিক প্রয়োজন বাদ দেওয়া: খাদ্য, আবাস, পোশাক এবং দৈনন্দিন ব্যবহার্য সম্পদ বাদ দিয়ে বাকি ধন হিসাব করুন।
নিষাব যাচাই করা: যদি সম্পদের পরিমাণ নিষাবের সমতুল্য বা তার বেশি হয়, তবে জাকাত ফরজ।
২.৫% হিসাব করা: নির্ধারিত হারের ২.৫% বা ১/৪০ অংশ হিসাব করুন। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনার নগদ ও ব্যবসার যোগ্য সম্পদ হয় ১,০০,০০০ টাকা, তাহলে জাকাত হবে ১,০০,০০০ × ২.৫% = ২,৫০০ টাকা।
যথাযথ বিতরণ: জাকাত ফরজ ব্যক্তির যোগ্য দরিদ্র, অসহায়, কুফরদর্শী মিসকিন, দীনহীনদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে।
আরও পড়ুনঃ বদনজর বা অশ্লীল ভিডিও দেখলে কি রোজা ভেঙে যায়?
৪. গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা
জাকাত ফরজ হলে তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ করা উত্তম।
নিকট আত্মীয় বা নিজের স্বার্থে বিতরণ করলে সওয়াব হারাতে পারেন।
সম্পদ যদি ঋণ বা দায়ের অধীনে থাকে, তবে ঋণের পরিমাণ বাদ দিয়ে হিসাব করতে হবে।
জাকাত আদায়ের সময় নিকটতম দিনের মধ্যে বিতরণ করা ভালো, যাতে মানুষ তা তৎক্ষণাৎ উপকারে ব্যবহার করতে পারে।
জাকাত হলো ধনী মুসলমানদের একটি সামাজিক ও আধ্যাত্মিক দায়িত্ব, যা দরিদ্র ও অসহায়দের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়। এটি ফরজ হয় সেই ব্যক্তির ওপর, যার সম্পদ নিষাবের সমতুল্য বা তার বেশি এবং তার মৌলিক প্রয়োজন অতিক্রম করে।
হিসাব করার জন্য সম্পদ তালিকা করা, মৌলিক প্রয়োজন বাদ দেওয়া, নিষাব যাচাই করা এবং ২.৫% হিসাব করে যথাযথভাবে বিতরণ করা সহজ ও কার্যকর পদ্ধতি।
আল্লাহ তাআলা কুরআনে ঘোষণা করেছেন যে, জাকাত প্রদানের মাধ্যমে ধনী ও দরিদ্র উভয়ই বরকত লাভ করে এবং সমাজে সমতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়।
মন্তব্য করুন

