বৃহস্পতিবার
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্বর্ণ বা গয়নার জাকাত কীভাবে হিসাব করবেন?

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম
expand
স্বর্ণ বা গয়নার জাকাত কীভাবে হিসাব করবেন?

স্বর্ণ বা গয়নার জাকাত একটি গুরুত্বপূর্ণ শরিয়তসম্মত বিধান। অনেক মানুষ মনে করেন গয়না যেহেতু ব্যবহার করা হয়, তাই এর ওপর জাকাত নেই।

কিন্তু ইসলামী ফিকহ অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে স্বর্ণ ও রূপার গয়নার ওপর জাকাত ফরজ হয়, তা ব্যবহার করা হোক বা না হোক। এ বিষয়ে কুরআন ও হাদিসে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন, “যারা স্বর্ণ ও রূপা জমা করে রাখে এবং আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” (সূরা তাওবা: ৩৪)। এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, স্বর্ণ ও রূপার মালিক হলে তার জাকাত আদায় করা জরুরি।

আরও পড়ুনঃ বদনজর বা অশ্লীল ভিডিও দেখলে কি রোজা ভেঙে যায়?

স্বর্ণের নিসাব কত

স্বর্ণের জাকাত ফরজ হওয়ার জন্য নিসাব নির্ধারিত হয়েছে ২০ মিসকাল, যা বর্তমান হিসাবে প্রায় ৮৫ গ্রাম স্বর্ণের সমপরিমাণ।

যদি কারো কাছে মোট স্বর্ণ বা স্বর্ণালংকার ৮৫ গ্রাম বা তার বেশি থাকে এবং তা এক পূর্ণ চন্দ্র বছর নিজের মালিকানায় থাকে, তবে তার ওপর জাকাত ফরজ হবে।

গয়না ব্যবহৃত হলেও জাকাত দিতে হবে কি না

অনেক আলেমের মতে, নারীরা যে স্বর্ণালংকার নিয়মিত ব্যবহার করেন, সেগুলোর ওপরও জাকাত ফরজ, যদি তা নিসাব পরিমাণ হয়।

হাদিসে এসেছে, এক নারী নবী (সা.)-এর কাছে স্বর্ণের চুড়ি পরে এলে তিনি জিজ্ঞেস করেন, “তুমি কি এর জাকাত দাও?” তিনি বললেন, না। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, “তুমি কি চাও কিয়ামতের দিন এগুলো আগুনের চুড়ি হয়ে যাক?” (আবু দাউদ, নাসাঈ)।

এই হাদিস প্রমাণ করে যে অলংকার হলেও জাকাত আদায় করা আবশ্যক।

জাকাতের হার কত

স্বর্ণ ও গয়নার জাকাতের হার হলো মোট মূল্যের ২.৫ শতাংশ বা ১/৪০ অংশ। অর্থাৎ ১০০ গ্রাম স্বর্ণ থাকলে তার ২.৫ গ্রাম সমপরিমাণ মূল্য জাকাত হিসেবে দিতে হবে।

আরও পড়ুনঃ জাকাত কাদের ওপর ফরজ এবং হিসাব করার সহজ নিয়ম।

হিসাব করার সহজ পদ্ধতি

প্রথমে নিজের সব স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকারের মোট ওজন নির্ধারণ করতে হবে। এতে চেইন, আংটি, কানের দুল, চুড়ি, নেকলেসসহ সব ধরনের স্বর্ণ অন্তর্ভুক্ত হবে। এরপর সেই মোট ওজনকে বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে গুণ করতে হবে।

যেমন, যদি কারো কাছে ১০০ গ্রাম স্বর্ণ থাকে এবং প্রতি গ্রাম স্বর্ণের মূল্য ৮,০০০ টাকা হয়, তাহলে মোট মূল্য হবে ৮,০০,০০০ টাকা। এর ২.৫ শতাংশ হবে ২০,০০০ টাকা। এটাই হবে তার জাকাতের পরিমাণ।

পাথর বসানো গয়নার হিসাব

অনেক গয়নায় পাথর বা হীরা বসানো থাকে। এ ক্ষেত্রে শুধু স্বর্ণের ওজন হিসাব করা হবে, পাথরের মূল্য জাকাতের অন্তর্ভুক্ত নয়। জুয়েলার থেকে স্বর্ণের নিট ওজন জেনে নেওয়া উত্তম। স্বর্ণ ও নগদ অর্থ একসাথে থাকলে

যদি কারো কাছে স্বর্ণের পাশাপাশি নগদ টাকা, ব্যাংক ব্যালেন্স বা ব্যবসার পুঁজি থাকে, তবে সবকিছু যোগ করে মোট সম্পদ হিসাব করতে হবে।

যদি সব মিলিয়ে নিসাব পরিমাণ হয়, তাহলে জাকাত ফরজ হবে এবং মোট সম্পদের ২.৫ শতাংশ আদায় করতে হবে।

ঋণ থাকলে কীভাবে হিসাব করবেন

কারো ওপর যদি বৈধ ঋণ থাকে, তবে সেই ঋণের পরিমাণ মোট সম্পদ থেকে বাদ দিয়ে জাকাত হিসাব করা যাবে। যেমন, মোট সম্পদ ৫ লক্ষ টাকা এবং ঋণ ১ লক্ষ টাকা হলে জাকাত হিসাব হবে ৪ লক্ষ টাকার ওপর।

জাকাত দেওয়ার সময় নিয়ত

জাকাত দেওয়ার সময় মনে মনে নিয়ত করা আবশ্যক যে এটি ফরজ জাকাত। কাউকে দেওয়ার সময় মুখে বলা জরুরি নয়, তবে অন্তরে নিয়ত থাকা শর্ত। জাকাত অবশ্যই শরিয়ত নির্ধারিত খাতে দিতে হবে, যেমন ফকির, মিসকিন, ঋণগ্রস্ত ও অসহায় মানুষ।

আরও পড়ুনঃ নিজের আপন ভাই-বোনকে কি জাকাত দেওয়া যাবে? স্বর্ণ বা গয়নার জাকাত হিসাব করা কঠিন নয়, যদি সঠিক নিয়ম জানা থাকে। মোট স্বর্ণের ওজন নির্ধারণ করা, বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী হিসাব করা এবং তার ২.৫ শতাংশ জাকাত আদায় করাই মূল পদ্ধতি।

ব্যবহার করা গয়নার ওপরও জাকাত ফরজ হয়, যদি তা নিসাব পরিমাণ হয়। জাকাত আদায়ের মাধ্যমে সম্পদ পবিত্র হয় এবং সমাজের দরিদ্র মানুষ উপকৃত হয়।

তাই প্রতিটি মুসলমানের উচিত নিজের স্বর্ণ ও সম্পদের সঠিক হিসাব করে সময়মতো জাকাত আদায় করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X