মঙ্গলবার
১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোজার নিয়ত আরবিতে না করলে কি রোজা হবে?

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৩৫ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

রোজার নিয়ত আরবিতে না করলে কি রোজা হবে—এই প্রশ্নটি অনেক মুসলমানের মনে আসে, বিশেষ করে যারা আরবি জানেন না। ইসলামের দৃষ্টিতে নিয়তের মূল বিষয় হলো-

মনের ইচ্ছা ও সিদ্ধান্ত, মুখে আরবি ভাষায় উচ্চারণ করা নয়। তাই রোজার নিয়ত আরবিতে না করলেও রোজা সহিহ হয়, যদি মনে মনে রোজা রাখার দৃঢ় সিদ্ধান্ত থাকে।

প্রথমত, নিয়তের অর্থ কী। নিয়ত মানে হলো কোনো কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করার অন্তরের ইচ্ছা ও সংকল্প। ফিকহের পরিভাষায় নিয়ত হলো “কাজ করার আগে অন্তরে সিদ্ধান্ত নেওয়া।” রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

আরও পড়ুনঃ হায়েজ বা নেফাস অবস্থায় কি সেহরি খাওয়া সুন্নত?

“নিশ্চয়ই সব কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।” (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম) এই হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, ইবাদতের মূল ভিত্তি হলো অন্তরের নিয়ত, ভাষা নয়।

দ্বিতীয়ত, নিয়ত আরবিতে উচ্চারণ করা ফরজ নয়। অনেক এলাকায় প্রচলিত আছে নির্দিষ্ট আরবি বাক্য মুখে বলে রোজার নিয়ত করতে হবে, যেমন “নাওয়াইতু আন আছুমা গাদান…”।

এগুলো বলা জায়েজ, কিন্তু বাধ্যতামূলক নয়। কেউ যদি বাংলায় মনে মনে বলে, “আমি আগামীকাল আল্লাহর জন্য রোজা রাখব,” তবুও তার রোজা সহিহ হবে। এমনকি কোনো শব্দ না বলে শুধু মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলেও নিয়ত হয়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ রোজা অবস্থায় বাচ্চাকে খাবার চিবিয়ে দেওয়া যাবে কি?

তৃতীয়ত, নিয়তের সময় কখন। ফরজ রোজার ক্ষেত্রে (রমজানের রোজা) সুবহে সাদিকের আগে নিয়ত করা জরুরি। অর্থাৎ সেহরি খাওয়ার সময় বা তার আগেই মনে মনে সিদ্ধান্ত থাকতে হবে যে আজ রোজা রাখব।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “যে ব্যক্তি ফজরের আগে রোজার নিয়ত করল না, তার রোজা নেই।” (আবু দাউদ, তিরমিজি) এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, সময়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, ভাষার বিষয়টি নয়।

চতুর্থত, যারা সেহরি খায়, তাদের নিয়ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয়ে যায়। কারণ সেহরি খাওয়ার অর্থই হলো রোজা রাখার প্রস্তুতি নেওয়া।

আলেমরা বলেন, সেহরি খাওয়াই নিয়তের প্রমাণ। তাই কেউ যদি সেহরি খেয়ে রোজা রাখে, কিন্তু আলাদা করে আরবি নিয়ত না পড়ে, তার রোজা ঠিক হবে।

পঞ্চমত, মুখে উচ্চারণ করা কি ভালো। নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা মুস্তাহাব বা ভালো অভ্যাস হিসেবে ধরা হয়, কারণ এতে মনোযোগ ও দৃঢ়তা বাড়ে।

আরও পড়ুনঃ পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর গোসল না করে রোজা রাখা যাবে কি?

তবে এটিকে ফরজ মনে করা ভুল। ইসলাম সহজ ধর্ম, যেখানে ভাষার জটিলতা চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। আল্লাহ তাআলা অন্তরের অবস্থা দেখেন, শব্দের সৌন্দর্য নয়।

উপসংহার হিসেবে বলা যায়, রোজার নিয়ত আরবিতে না করলেও রোজা সম্পূর্ণ সহিহ হবে, যদি অন্তরে আল্লাহর জন্য রোজা রাখার ইচ্ছা থাকে এবং সুবহে সাদিকের আগে সেই সিদ্ধান্ত করা হয়।

নিয়তের জন্য আরবি ভাষা শর্ত নয়, বরং আন্তরিক সংকল্পই মূল বিষয়। তাই যারা আরবি জানেন না, তারা বাংলায় বা মনে মনে নিয়ত করলেই রোজা আদায় হয়ে যাবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Iran VS New Zealand
Scheduled
16 Jun, 07:00 AM
VS
World Cup