রবিবার
০২ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
০২ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোজা অবস্থায় বাচ্চাকে খাবার চিবিয়ে দেওয়া যাবে কি?

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:১৪ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

রমজানের রোজা ফরজ ইবাদত, যা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাওয়া, পান ও যৌন সম্পর্ক থেকে বিরত থাকা। তবে অনেক মা বা বাবা জানতে চান—

রোজা থাকা অবস্থায় বাচ্চাকে খাবার চিবিয়ে দেওয়া বা খাওয়ানো জায়েজ কি না। ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করা হলো।

প্রথমত, শিশুকে খাওয়ানো রোজা ভাঙে না। হাদিসে এসেছে, হযরত আয়েশা (রা.) বলেন,

“রাসূলুল্লাহ ﷺ গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী নারীদের ওপর রোজা রাখতে চাপ দেননি। শিশুর ক্ষতি হবে এমন অবস্থায় মা রোজা না রাখার অনুমতি আছে।” (সহিহ মুসলিম)

আরও পড়ুনঃ রোজা অবস্থায় মেহেদি দিলে কি রোজা মাকরুহ হয়?

এ থেকে বোঝা যায়, শিশু খাওয়ানো বা চিবিয়ে দেওয়া মায়ের রোজা ভাঙবে না। কারণ খাবার গলার মাধ্যমে মায়ের পাকস্থলীতে পৌঁছায় না, বরং শিশুর মুখে চলে যায়। এটি কোনো শারীরিক খাওয়ার অংশ নয়।

দ্বিতীয়ত, সতর্কতা প্রয়োজন:

১. বাচ্চার খাবার চিবিয়ে দেওয়ার সময় মা যেন নিজের মুখে খাবার না গিলে ফেলেন। রোজা থাকা অবস্থায় যদি খাবার মায়ের পাকস্থলীতে পৌঁছায়, রোজা ভেঙে যাবে।

২. শিশু যাতে নিরাপদে খায়, তাই খাবার ছোট টুকরো বা মোলায়েম হওয়া উচিত।

৩. মায়ের স্বাস্থ্য ও শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর নজর রাখা জরুরি। রোজার সময়ে অতিরিক্ত ক্লান্তি বা দুর্বলতা দেখা দিলে শিশুর খাবার অন্য কোনো সময়ে দেওয়াই ভালো।

আরও পড়ুনঃ রোজা অবস্থায় লিপস্টিক বা মেকআপ ব্যবহার করা যাবে কি?

তৃতীয়ত, ইসলাম শিশুদের খাওয়ানোকে নেক ও সাওয়াবের কাজ হিসেবে গণ্য করে।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “শিশুকে খাওয়ানো ও তার যত্ন নেওয়া মা-বাবার জন্য নেকি।” (তিরমিজি)

এ থেকে বোঝা যায়, রোজার সঙ্গে শিশুর খাদ্য সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করতে কোনো বাধা নেই।

চতুর্থত, বিপদজনক পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থা:

আরও পড়ুনঃ হায়েজ বা নেফাস অবস্থায় কি সেহরি খাওয়া সুন্নত?

যদি মা খুব দুর্বল বা অসুস্থ বোধ করেন, শিশু খাওয়ানোর জন্য অন্য কেউ দায়িত্ব নিতে পারে। এতে রোজা, স্বাস্থ্য ও শিশুর পুষ্টি—সবই ঠিক থাকে।

রোজা অবস্থায় বাচ্চাকে খাবার চিবিয়ে দেওয়া পূর্ণভাবে জায়েজ। এটি রোজা ভাঙবে না। তবে মা যেন নিজের পাকস্থলীতে খাবার না পৌঁছায়

এবং নিজের স্বাস্থ্যের ওপর খেয়াল রাখে। ইসলাম সহজ ও দয়ার ধর্ম, যেখানে শিশু পালন ও মা-বাবার স্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন