

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইসলামে রোজা ফরজ ইবাদত হলেও নারীদের জন্য বিশেষ সহজ বিধান রয়েছে, যারা হায়েজ (মাসিক) বা নেফাস (সন্তানের জন্মের পর রক্তপাত) অবস্থায় রয়েছেন।
অনেকেই জানতে চান—এই অবস্থায় সেহরি খাওয়া সুন্নত কি না। ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হলো।
প্রথমত, হায়েজ বা নেফাস অবস্থায় রোজা রাখা নিষিদ্ধ। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন,
“মহিলারা যখন হায়েজে থাকে, তখন তারা নামাজ আদায় করবে না এবং রোজা রাখবে না।” (সূরা বাকারা: ২৮৫)
আরও পড়ুনঃ রান্নার সময় লবণের স্বাদ জিহ্বা দিয়ে চেখে দেখা যাবে কি?
এটি নির্দেশ দেয়, যে সময় নারীর মাসিক বা নেফাস চলছে, সে রোজা রাখতে পারবেন না।
তবে এই সময় সেহরি খাওয়া বা পানীয় গ্রহণ করার কোনো নিষেধ নেই। কারণ রোজা তখন ফরজ নয়। অর্থাৎ হায়েজ বা নেফাসের সময় সেহরি খাওয়ার মাধ্যমে শরীরকে শক্তিশালী ও সুস্থ রাখা যাবে।
এটি সুন্নত বা প্রথাগত নির্দেশের আওতায় আসে, বিশেষত যারা পরবর্তী সময়ে রোজার কাজা করবেন।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “নারী যখন হায়েজ বা নেফাসে থাকে, তখন তাকে কোনো রোজা রাখা বাধ্য নয়, তবে সে দুনিয়াজীবনে খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করতে পারে।” (তিরমিজি)
এ থেকে বোঝা যায়, এই সময় খাবার ও পানীয় গ্রহণ সম্পূর্ণ জায়েজ এবং সুস্থতার জন্য উপকারী।
দ্বিতীয়ত, সেহরি খাওয়া এমন সময় বিশেষভাবে উপকারী হতে পারে, কারণ—
১. রোজার কাজা করার আগে শক্তি ও পুষ্টি বজায় থাকে
আরও পড়ুনঃ রোজা অবস্থায় মেহেদি দিলে কি রোজা মাকরুহ হয়?
২. দেহের দুর্বলতা কমে এবং পরবর্তী রোজা রাখার সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়
৩. আল্লাহর দেয়া সুস্থতা ও পুষ্টি নষ্ট হয় না, বরং স্বাস্থ্য সংরক্ষিত থাকে
তৃতীয়ত, হায়েজ বা নেফাসের সময় সেহরি খাওয়ার সাথে কোনো নির্দিষ্ট নেক কাজের বা দোয়ার সীমাবদ্ধতা নেই।
তবে এই সময় দোয়া ও জিকির, তাসবিহ, ইস্তেগফার চালিয়ে যাওয়া সুন্নত এবং পছন্দনীয়।
আরও পড়ুনঃ রোজা অবস্থায় লিপস্টিক বা মেকআপ ব্যবহার করা যাবে কি?
চতুর্থত, হায়েজ বা নেফাস শেষ হলে এবং সুস্থ হলে নারীরা রোজার কাজা করতে পারবেন।
তখন সেই দিনের রোজার জন্য সুস্থতার কারণে সেহরি খাওয়া সুন্নত হিসেবে ধরা হয়। অর্থাৎ সেহরি খাওয়া স্বাভাবিক খাদ্য গ্রহণের অংশ, যা শরীরকে প্রস্তুত করে।
হায়েজ বা নেফাস অবস্থায় সেহরি খাওয়া পূর্ণভাবে জায়েজ এবং সুন্নত। এই সময় রোজা রাখা ফরজ নয়, তাই খাবার বা পানীয় গ্রহণে কোনো সমস্যা নেই।
বরং পরবর্তী রোজা রাখার জন্য শরীরকে প্রস্তুত ও সুস্থ রাখা যায়। ইসলামে নারীর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়, এবং আল্লাহ তাআলা এই বিধান দিয়ে নারীদের জন্য সহজীকরণ করেছেন।
মন্তব্য করুন

