শুক্রবার
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঋণ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ইফতারের আগে যে দোয়া পড়বেন

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:১১ পিএম আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

ঋণ মানুষের জীবনে এক কঠিন বাস্তবতা। প্রয়োজন, অসচ্ছলতা, ব্যবসায় ক্ষতি কিংবা হঠাৎ বিপদের কারণে অনেক সময় মানুষ ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে পড়ে। ঋণ শুধু আর্থিক চাপই নয়, এটি মানসিক অশান্তি, দুশ্চিন্তা ও আত্মিক দুর্বলতার কারণও হয়ে দাঁড়ায়।

ইসলাম ঋণকে প্রয়োজনের ক্ষেত্রে বৈধ করলেও ঋণের ভারে জীবন কাটানোকে কখনোই কাম্য মনে করেনি। তাই ঋণ থেকে মুক্তির জন্য দোয়া, চেষ্টা ও আল্লাহর ওপর ভরসা—এই তিনটি বিষয়কে একসঙ্গে গুরুত্ব দিয়েছে। রমজান মাস, বিশেষ করে ইফতারের আগ মুহূর্ত, ঋণমুক্তির জন্য দোয়া করার সবচেয়ে উত্তম সময়গুলোর একটি।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঋণকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখতেন। হাদিসে এসেছে, তিনি নিয়মিত ঋণ থেকে আশ্রয় চেয়ে দোয়া করতেন। সহিহ বুখারিতে বর্ণিত আছে, নবীজি নামাজের পর বলতেন, “আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল মা’ছামি ওয়াল মাগরাম।”

এই দোয়ায় ‘মাগরাম’ শব্দ দ্বারা ঋণের বোঝাকে বোঝানো হয়েছে। সাহাবিরা যখন জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কেন এত বেশি ঋণ থেকে আশ্রয় চান, তখন তিনি বললেন, মানুষ ঋণগ্রস্ত হলে কথা বললে মিথ্যা বলে এবং ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে। এটি প্রমাণ করে, ঋণ শুধু অর্থনৈতিক সমস্যা নয়; বরং এটি চরিত্র ও ইমানের ওপরও প্রভাব ফেলে।

আরও পড়ুনঃ পিতা-মাতার জন্য দোয়া: রমজানে মৃত বাবা-মায়ের জন্য কী পড়বেন?

রমজানে ইফতারের আগে দোয়া কবুল হওয়ার ব্যাপারে বিশেষ ফজিলত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তিন ব্যক্তির দোয়া প্রত্যাখ্যান করা হয় না—এর মধ্যে একজন হলো রোজাদার, ইফতারের আগ পর্যন্ত।

এই হাদিসের আলোকে আলেমগণ বলেন, ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে ঋণ থেকে মুক্তির জন্য দোয়া করা অত্যন্ত কার্যকর। এই সময় বান্দা ক্ষুধা ও তৃষ্ণার সঙ্গে আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে থাকে, যা দোয়ার আন্তরিকতাকে আরও গভীর করে তোলে।

ঋণমুক্তির জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে দোয়াটি বিশেষভাবে শিখিয়েছেন, তা হলো: “আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাজান, ওয়া আউযুবিকা মিনাল আজজি ওয়াল কাসাল, ওয়া আউযুবিকা মিনাল জুবনি ওয়াল বুখল, ওয়া আউযুবিকা মিন গালাবাতিদ দাইনি ওয়া কাহরির রিজাল।”

আরও পড়ুনঃ কঠিন বিপদ ও রোগবালাই থেকে মুক্তির জন্য রোজার মাসের দোয়া।

এই দোয়ায় দুশ্চিন্তা, অলসতা, কৃপণতা ও মানুষের কাছে অপমানিত হওয়ার পাশাপাশি ঋণের চাপে পড়া থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে। ইফতারের আগে এই দোয়াটি ধীরে, অর্থ বুঝে এবং একাধিকবার পড়া অত্যন্ত উপকারী। কুরআনেও ঋণ ও রিজিকের বিষয়ে আল্লাহ তাআলার স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

আল্লাহ বলেন, যে ব্যক্তি তাকওয়া অবলম্বন করে, আল্লাহ তার জন্য পথ খুলে দেন এবং তাকে এমন জায়গা থেকে রিজিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না। এই আয়াত প্রমাণ করে, ঋণ থেকে মুক্তির জন্য তাকওয়া ও আল্লাহভীতি অপরিহার্য। রমজানে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা, হারাম উপার্জন পরিহার করা এবং হালাল পথে চলা ঋণমুক্তির দোয়া কবুল হওয়ার অন্যতম শর্ত।

ঋণমুক্তির দোয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমলের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঋণগ্রস্ত সাহাবিদের শুধু দোয়া শেখাননি, বরং পরিশ্রম, সততা ও মানুষের হক আদায়ের প্রতিও জোর দিয়েছেন। রমজানে সদকা করা, যদিও অল্প পরিমাণে হয়, ঋণমুক্তির পথে বড় ভূমিকা রাখে।

হাদিসে এসেছে, সদকা আল্লাহর গজব ঠাণ্ডা করে এবং অদৃশ্য বিপদ দূর করে। অনেক সময় ঋণের পেছনে অদৃশ্য কারণ কাজ করে, যা সদকার মাধ্যমে দূর হয়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ রমজান মাসে রিজিক ও বরকত বৃদ্ধির কার্যকরী দোয়া ও আমল।

রমজানে ইফতারের আগে দোয়া করার সময় নিজের অসহায়ত্ব স্বীকার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন, আল্লাহ অভাবমুক্ত, আর তোমরাই মুখাপেক্ষী। এই উপলব্ধি নিয়ে যখন একজন ঋণগ্রস্ত বান্দা আল্লাহর সামনে হাত তোলে, তখন আল্লাহ তার জন্য এমন ব্যবস্থা করেন, যা সে কল্পনাও করেনি। কেউ নতুন কাজের সুযোগ পায়, কেউ অপ্রত্যাশিত সাহায্য পায়, আবার কারও ঋণ পরিশোধের রাস্তা সহজ হয়ে যায়।

সবশেষে বলা যায়, ঋণ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ইফতারের আগ মুহূর্ত এক অমূল্য সুযোগ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেখানো দোয়া, তাকওয়া, সদকা ও হালাল চেষ্টা—এই চারটি বিষয় একসঙ্গে থাকলে আল্লাহর সাহায্য অবশ্যম্ভাবী।

রমজানে যদি একজন বান্দা আন্তরিকভাবে ঋণমুক্তির দোয়া করে এবং নিজের জীবন সংশোধনের চেষ্টা করে, তবে আল্লাহ তাআলা তাকে দুশ্চিন্তা ও ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত করে প্রশান্তিময় জীবন দান করেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X